এবার গাজার গণহত্যায় মার্কিন অস্ত্র ব্যবহারের ফুটেজ প্রকাশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:০৭
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান টেলিভিশন নেটওয়ার্কে প্রচারিত একটি ভিডিও ফুটেজে গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকৃত অস্ত্রের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক সিবিএস নিউজের দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘সিক্সটি মিনিটস’-এ রোববার (১২ জানুয়ারি) প্রচারিত ওই ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুরা ধ্বংসস্তূপের ওপর বসে প্রতিরক্ষা বিভাগের লেবেলযুক্ত গোলাবারুদের খোসা নিয়ে খেলছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোলাবারুদের এ ধরনের খোসা সাধারণত গাজার সর্বত্র পাওয়া যায়।
অনুষ্ঠান সম্প্রচারকালীন গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থনের কারণে গত এপ্রিলে পদত্যাগ করা স্টেট ডিপার্টমেন্টের সাবেক কর্মী হালা রারিত তার উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য এবং শিশুদের উপর অপ্রতিরোধ্য ক্ষতির বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘গাজায় যা ঘটছে তা মার্কিন অস্ত্র ছাড়া সম্ভব হতো না। এটা নিঃসন্দেহে সত্যি।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দুবাইয়ে ছিলেন রারিত। তার কাজের একটি অংশ ছিল মধ্যপ্রাচ্যে গাজা যুদ্ধে আমেরিকার ভূমিকা কীভাবে দেখা হচ্ছে তা নথিভুক্ত করার জন্য আরব সংবাদপত্র এবং সামাজিক মিডিয়া পর্যবেক্ষণ করা।
তিনি জানান, অনাহার এবং বিমান হামলায় আক্রান্ত শিশুদের ছবি প্রদর্শনের চেষ্টা করায় সহকর্মীরা তাকে তিরস্কার করেছিল।
বিমান হামলায় এক তরুণীর মৃত্যুর খবর দেখে রাজকন্যার পোশাক পরা শিশুটির হাসিমুখে ছড়ি নাড়ানোর একটি ছবি দেখার একটি আবেগঘন বিবরণও শেয়ার করেছেন রারিত।
তিনি বলেন, 'আমি ওই শিশুর মধ্যে আমার সন্তান দেখেছিলাম।’
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক হামলায় ৪৬ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি লোক প্রাণ হারিয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানালেও হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল।
গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গত বছরের নভেম্বরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলাও চলছে।
এসবি

