যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন টার্কস্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইনকে লক্ষ্যবস্তু করছে : রাশিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৫, ১৪:০৪
ছবি : সংগৃহীত
ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রাশিয়ার গ্যাস বহনকারী একমাত্র পাইপলাইনের ওপর আক্রমণ করতে ইউক্রেনকে উৎসাহিত করছে ওয়াশিংটন বলে দাবি করেছে মস্কো।
মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন তার দেশের জ্বালানি অবকাঠামোতে সন্ত্রাসী হামলাকে উৎসাহিত করছে। টার্কস্ট্রিমের ওপর আঘাত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ল্যাভরভ বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো ক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতা সহ্য করে না। শক্তি ক্ষেত্রও এর অন্তর্ভুক্ত। তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের শক্তি স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন করার জন্য সন্ত্রাসী কার্যক্রমের পৃষ্ঠপোষকতা করছে।’
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানিসহ কোনো ক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতা সহ্য করে না। তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানি স্থিতিশীলতা নষ্ট করার লক্ষ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে বেপরোয়াভাবে সমর্থন করছে।’
তিনি আরও বলেন, 'নর্ড স্ট্রিমে নাশকতার পর তারা তাদের ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদের টার্কস্ট্রিম নষ্ট করতে উৎসাহিত করছে।’
এর আগে সোমবার (১৩ জানুয়ারি) রাশিয়া জানিয়েছে, তারা টার্কস্ট্রিমের অবকাঠামোতে হামলা চালানোর চেষ্টা করা ইউক্রেনের নয়টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের শেষ দিকে মেয়াদোত্তীর্ণ ট্রানজিট চুক্তি নবায়ন করতে ইউক্রেন অস্বীকৃতি জানানোর পর এটিই ইইউতে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহের একমাত্র পাইপলাইন। এই রুটে স্থগিতাদেশ যুদ্ধের বিষয়ে ইইউর ঐক্যকে আরও ব্যাহত করেছে। স্লোভাকিয়া দাবি করেছে যে, এটি সংকট তৈরী করবে এবং ইইউ ইউক্রেনকে সমর্থন না করার হুমকি দিয়েছে।
হাঙ্গেরি ও অস্ট্রিয়ায় গ্যাস পাঠানোর আগে কৃষ্ণ সাগরের নিচ দিয়ে তুরস্কে যাওয়া টার্কস্ট্রিম পাইপলাইনকে লক্ষ্যবস্তু করে আক্রমণ করার ঘটনাকে 'জ্বালানি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড' বলে অভিহিত করেছে রাশিয়া। তবে কিয়েভ এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
মস্কো মার্কিন সমর্থিত ইউক্রেনীয় এজেন্টদের বিরুদ্ধে নর্ড স্ট্রিমে হামলার অভিযোগ এনেছে। এর আগে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে বাল্টিক সাগরের তলদেশের পাইপলাইনটি বিস্ফোরিত হয়েছিল।
এদিকে, ইউক্রেন মঙ্গলবার রাশিয়ার একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে উভয়দেশের গণমাধ্যমে। হামলায় রাশিয়ার বেশ কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তিনটি শহরে স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে।
ইউক্রেনের সরকারি সেন্টার অ্যাগেইনস্ট ডিসইনফরমেশনের প্রধান আন্দ্রি কোভালেঙ্কো মঙ্গলবার ইউক্রেনীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘এঙ্গেলস, সারাতোভ, কাজান, ব্রায়ানস্ক ও তুলার অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র, তেল শোধনাগার ও গুদামগুলোকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে।’
গণমাধ্যম ও আঞ্চলিক সরকারের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তাতারস্তানের একটি গ্যাস স্টোরেজ ট্যাংকে একটি ড্রোন আঘাত করলে কাজান শহরের কাছে আকাশের দিকে আগুনের শিখা ও ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।
আঞ্চলিক গভর্নর রোমান বুসারগিন টেলিগ্রামে লিখেছেন, কাজান থেকে ৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি দক্ষিণ-পশ্চিমে এঙ্গেলসে ব্যাপক ড্রোন হামলায় দুটি শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কাজান, সারাতোভ, পেনজা, উলিয়ানোভস্ক ও নিঝনেকামস্ক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থা।
তবে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলা বা ব্যবহৃত অস্ত্রের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে, ইউক্রেনের বিমান বাহিনী মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা রাতভর তাদের ১১টি অঞ্চলে রাশিয়ার ছোঁড়া ৮০টি ড্রোনের মধ্যে ৫৮টি গুলি করে ভূপাতিত করেছে।
আগামী ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেকের আগেই একে অপরের ওপর হামলার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন।
এদিকে ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোকে আরও মার্কিন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনতে রাজি করাতে আগ্রহী। এটা এমন একটি প্রচেষ্টা যা রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ আরও কমিয়ে ফেলতে পারে।
এসবি

