ভারতীয় মহাসাগর অঞ্চলে ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে : ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:০৩
ছবি : সংগৃহীত
ভারতীয় মহাসাগর অঞ্চলে আন্তর্জাতিক শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) তিনি বলেন, প্রধান বাণিজ্য রুটে শক্তিশালী নৌ উপস্থিতি তার দেশের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। তবে তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) এ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২০ সালে ভারত-চীনের হিমালয় সীমান্তে সংঘর্ষে ২৪ জন সেনা নিহত হওয়ায় চীনের সাথে ভারতের সম্পর্কের অবনতি ঘটার পর থেকে চীন ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীন ৩৭০টিরও বেশি জাহাজ নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম নৌবাহিনী।
ভারতীয় মহাসাগরের দ্বীপ দিয়েগো গর্সিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একটি যৌথ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
ধারাবাহিক আলোচনার পর অক্টোবরে একটি চুক্তি হওয়ার পর চীন ও ভারতের সেনারা দুটি মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তবে ভারতের সেনাপ্রধান এই সপ্তাহে সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটি বিষয়ে অচলাবস্থা এখনও অব্যাহত রয়েছে।’
মুম্বাই শহরে একটি সাবমেরিন এবং দুটি নৌবাহিনীর জাহাজ উদ্বোধন করার সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, ‘বিশ্বের ব্যবসা-বাণিজ্যের বড় একটি অংশ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে অতিবাহিত হয়। ভূ-কৌশলগত কারণে এই অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক শক্তি প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ও অংশ হয়ে উঠছে।’
তিনি বলেন, ‘ভারতের বাণিজ্যের ৯৫ শতাংশই ভারতীয় মহাসাগর অঞ্চলের সাথে যুক্ত। এই পরিস্থিতিতে একটি শক্তিশালী ভারতীয় নৌবাহিনীর উপস্থিতি আমাদের সর্ববৃহৎ অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।’
বাংলাদেশ, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানে বিনিয়োগ ও উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোতে বেইজিং প্রভাব বাড়ানোয় চীনকে মোকাবিলা করার চেষ্টা করেছে ভারত।
এদিকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৭৫টি জাহাজের শক্তিশালী নৌবাহিনী তৈরির পরিকল্পনা করেছে নয়াদিল্লি। স্থানীয়ভাবে তৈরি উপাদান ব্যবহারের ওপর নয়াদিল্লি ক্রমবর্ধমানভাবে জোর দিচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, জাহাজের নির্মাণের গতি চীনের তুলনায় ধীর। চীন যেখানে বছরে প্রায় ১৪টি যুদ্ধজাহাজ তৈরি করে, সেখানে ভারতের জাহাজ নির্মাণের সংখ্যা মাত্র চারটি।
এসবি

