Logo

আন্তর্জাতিক

গাজায় বন্দি মুক্তি রোববার শুরু হবে বলে আত্মবিশ্বাসী যুক্তরাষ্ট্র

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৫, ১১:৩৯

অ
গাজায় বন্দি মুক্তি রোববার শুরু হবে বলে আত্মবিশ্বাসী যুক্তরাষ্ট্র

ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও বন্দি মুক্তি চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে শেষ মুহূর্তে দু’পক্ষের মধ্যে কিছু বিতর্ক সত্ত্বেও রোববার নির্ধারিত সময়ে চুক্তি কার্যকর প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন। 

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) তিনি ওয়াশিংটনে আমেরিকার শীর্ষ কূটনীতিক হিসেবে তার বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী এবং পুরোপুরি প্রত্যাশা করি বাস্তবায়ন রোববার শুরু হবে, যেটা আমরা বলেছি।’

শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা ভয়েস অব আমেরিকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামাসের বিরুদ্ধে চুক্তির বিষয়ে পিছু হটার অভিযোগ আনার পর, কিছু সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতির শুরু ও প্রথম কয়েকজন জিম্মির মুক্তির বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। 

নেতানিয়াহুর দফতর থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, হামাস শেষ মুহূর্তে নানা ছাড় আদায়ের চেষ্টা করছে। জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে খুনের দায়ে বন্দী কোন ফিলিস্তিনির মুক্তির ব্যাপারে ইসরায়েলের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে বলে যে সমঝোতা হয়েছিল, নেতানিয়াহুর দফতর হামাসের বিরুদ্ধে সেখান থেকে সরে আসার অভিযোগ আনে। 

কিছু সময় পর, সিনিয়র হামাস নেতা ইজ্জাত আল-রিশক বলেন যে, তারা আলোচনাকারীদের ঘোষণা করা যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। 

এ সম্পর্কে বাইডেন বলেন, ‘এটা খুব অবাক করার মত ব্যাপার না যে, এরকম একটা কঠিন আলোচনার পর কিছু অসমাপ্ত বিষয় রয়ে যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সেই অসমাপ্ত বিষয় ঠিক করছি।’

এদিকে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা মাত্র কয়েকদিন দূরে থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় কয়েক দফা হামলা চালায়। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মীরা জানায়, যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণার পর হামলায় ভূমধ্যসাগরের তীরে এই সরু ভূখণ্ডে অন্তত ৭১জন নিহত হয়েছে। 

জাতিসংঘের এজেন্সিগুলো বলছে, যদি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তাহলে তারা গাজায় ফিলিস্তিনিদের জন্য ব্যাপক মানবিক ত্রাণ পৌঁছে দিতে প্রস্তুত।

জাতিসংঘ বলছে, গাজার ২৩ লক্ষ বাসিন্দার অন্তত ১৯ লক্ষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং ৯২ শতাংশ বসতবাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। 

ইসরায়েলি সরকারের ভেতরে যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিরুদ্ধে সবচেয়ে জোরালো বক্তব্য এসেছে অর্থমন্ত্রী বেযালেল স্মটরিচের কাছ থেকে। তিনি এই চুক্তিকে ইসরায়েল রাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি খারাপ এবং বিপজ্জনক চুক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। 

প্রসঙ্গত, গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত আছে ৪২ দিনের যুদ্ধবিরতি, গাজা থেকে ৩৩জন জিম্মির মুক্তি, ইসরায়েল থেকে ফিলিস্তিনি বন্দীর মুক্তি, গাজা থেকে পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার এবং ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের জন্য মানবিক ত্রাণ সরবরাহ ত্বরান্বিত করা। 

প্রথম পর্যায়ের সময় দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিস্তারিত নিয়ে আলোচনা হবে। যার লক্ষ্য হবে লড়াই-এর স্থায়ী অবসান ঘটানো, বাকি সকল জিম্মিদের মুক্তি এবং ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার। 

চূড়ান্ত পর্যায়ের বিষয় হবে গাজার প্রশাসন এবং নিরাপত্তা কাঠামোসহ ধ্বংসপ্রাপ্ত ভূখণ্ডের পুনর্নির্মাণ। 

এসবি

Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন