Logo

আন্তর্জাতিক

অভিষেকের আগে শি জিনপিংকে ফোন করলেন ট্রাম্প

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:৩৮

অ
অভিষেকের আগে শি জিনপিংকে ফোন করলেন ট্রাম্প

ছবি : সংগৃহীত

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) এ ফোনালাপ করেন তারা। এর ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে চীন ঘোষণা করে যে, তারা সোমবার ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং’কে ওয়াশিংটনে পাঠাচ্ছে। 

শনিবার (১৮ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা ভয়েস অব আমেরিকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এই ফোনালাপকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের জন্য খুব ভালো বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, তারা বাণিজ্যিক ভারসাম্য, ফেন্টানিল, টিকটক ও আরও অনেক বিষয়ে আলোচনা করেন। 

ট্রাম্প পোস্টে লেখেন, ‘এটি আমার আশা যে আমরা একত্রে বহু সমস্যার সমাধান করতে পারবো এবং তা অবিলম্বে শুরু হবে। এই পৃথিবীকে আরও শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ করার জন্য প্রেসিডেন্ট শি এবং আমি সাধ্যমতো সবকিছু করবো।’ 

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায় ফোনালাপের সময়ে ট্রাম্পকে তার নির্বাচনী বিজয়ের জন্য শি শুভেচ্ছা জানান এবং আগামী চার বছর যুক্তরাষ্ট্র চীন সম্পর্কের উন্নয়নের বিষয়ে তার এবং নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের গভীর প্রত্যাশা রয়েছে। 

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভিতে প্রকাশিত প্রেসিডেন্ট শি’র বক্তব্যে বলা হয়, ‘আমরা উভয়ই আমাদের মধ্যে আলাপকে খুব গুরুত্ব দিচ্ছি, আমরা উভয়ই আশা করছি আমেরিকার প্রেসিডেন্টের এই নতুন মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের শুভ সূচনা হবে এবং আমরা উভয়ই চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে চাই যাতে নতুন করে এই সূচনা পর্ব থেকে আমরা আরও অগ্রগতি সাধন করতে পারি।’ 

শি বলেন যদিও বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে তবু প্রধান বিষয়টি হচ্ছে, ‘পরস্পরের মূল স্বার্থ ও প্রধান উদ্বেগগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং সমস্যার যথার্থ সমাধান খুঁজে বের করা।’

শি তাইওয়ানের বিষয়টি যত্নসহকারে দেখার জন্য ট্রাম্পের প্রতি জোর আবেদন জানান। বেইজিং দাবি করে যে, গণতান্ত্রিক তাইওয়ান হচ্ছে তাদের এলাকার অংশ এবং ওই দ্বীপটিকে চীনে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনবোধে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দেওয়া হয়েছে। 

চীনের বিবরণ অনুযায়ী, শি ও ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ, ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যকার সংঘাত আর প্রধান সব আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে মত বিনিময় করেন। 

এদিকে শুক্রবারে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা করে যে অভিষেক অনুষ্ঠানে শি’র প্রতিনিধিত্ব করবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং। 

তার অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রাম্প, প্রেসিডেন্ট শি ও অন্যান্য বিদেশি নেতাদের আমন্ত্রণ জানানোর এক মাসেরও বেশি সময় পরে এ ঘোষণাটি দেওয়া হলো। এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি পদক্ষেপ কারণ অতীতে বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। 

বিশ্লেষকরা বলছেন হানকে পাঠিয়ে বেইজিং নতুন ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি তাদের বন্ধুত্বের মনোভাব প্রদর্শন করছে। 

বেইজিং-এর শিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এন্ড স্ট্র্যাটেজির সিনিয়র ফেলো ঝোও বো ভয়েস অফ আমেরিকাকে ফোনে বলেন, ‘চীনের এমন কোন প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্য নেই যে অন্যান্য রাষ্ট্রপ্রধানের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্টকেই যোগ দিতে হবে। ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে ভাইস প্রেসিডেন্টকে পাঠানো সব চেয়ে ভালো একটা বিকল্প এবং এতে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি বেইজিং-এর বন্ধুত্বের মনোভাবই ব্যক্ত হয়েছে।’

ট্রাম্পের এই আমন্ত্রণে যদিও বেইজিং ইতিবাচকভাবে সাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে, অন্যান্য বিশেষজ্ঞ বলছেন হানের উপস্থিতি হবে প্রধানত আনুষ্ঠানিক। 

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের বাকেল ইউনিভার্সিটির চীনা পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ঝিকুন ঝু বলেন, ‘অভিষেক অনুষ্ঠানে হানের উপস্থিতি আনুষ্ঠানিক হলেও বেইজিং-এর এই পদক্ষেপ ট্রাম্পের এই দ্বিতীয় আমলের প্রশাসনে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের একটি ভালো ভিত্তি রচনা হতে পারে।’ 

তবে, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তন চীনের জন্য অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। চীন সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ক্রমশই পিছিয়ে পড়ছে। 

এদিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারাভিযানে ট্রাম্প চীনে উৎপাদিত পণ্যের উপর ৬০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সংকল্প ব্যক্ত করেছিলেন।

এ সম্পর্কে ঝু বলেন, ‘উচ্চ হারে শুল্ক আরোপের সম্ভাবনায় ট্রাম্পের এই দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের বিষয়ে বেইজিং সতর্ক বোধ করছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জানি না ট্রাম্প কি খেলা খেলবেন, কাজেই আমি মনে করি চীনের প্রতি তার কি নীতি হবে সেটা দেখার জন্য চীন অপেক্ষা করবে।’ 

অপরদিকে, চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করার হুমকি সত্ত্বেও, ট্রাম্প বলেন দুটি দেশের সম্পর্ক ভালো হতে পারে এবং তিনি তার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে চীনের নেতাদের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে চলছেন। 

 এর আগে বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সিনেটে তার নিয়োগ নিশ্চিতকরণের শুনানিতে রুবিও চীনকে, ‘এ জাতির সামনে সব চাইতে শক্তিসম্পন্ন ও বিপজ্জনক নিকটতম প্রতিপক্ষ’ বলে বর্ণনা করেন। 

তিনি বলেন, ‘তাদের কাছে এমন উপাদান আছে যা কখনই সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে ছিল না। তারা প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে আমাদের প্রতিপক্ষও প্রতিদ্বন্দ্বী, অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী।’ 

তবে শুনানির সময়ে চীন সম্পর্কে রুবিওর বাহ্যত এই কঠোর বক্তব্য সত্ত্বেও, ঝু বলেন, ‘এটা এখনও বলার সময় আসেনি যে নতুন প্রশাসনের সময়ে এই ভাষা সত্যিকারের নীতিতে পরিণত হবে কিনা।’ 

তিনি ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেন, ‘ট্রাম্প নিয়োগকৃত কোন কোন ব্যক্তি চীন সম্পর্কে বিরূপ মনোভাব পোষণ করলেও যেহেতু তারা ট্রাম্পের জন্য কাজ করছেন, তারা ট্রাম্পের নীতি লঙ্ঘন করবেন না।’ 

ঝু বলেন, ‘যেহেতু এটা পরিষ্কার নয় ট্রাম্প চীনের প্রতি কীভাবে তার নীতি গঠন করবেন, ওয়াশিংটন ও বেইজিং সতর্কতার সঙ্গেই এগিয়ে যাবে।’

তিনি মনে করেন, ‘ট্রাম্পের প্রথম আমলে দুপক্ষেরই অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না। মনে হচ্ছে এবার তারা নতুন করে শুরু করবে।’

এসবি

Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন