যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও গাজায় নিহত আরও ২৩
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৫, ০৮:০৯
ছবি : সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় আরও অন্তত ২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা প্রায় ৪৭ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এছাড়া ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি।
শনিবার (১৮ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চলমান হামলায় কমপক্ষে আরও ২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬ হাজার ৮৯৯ জনে পৌঁছেছে বলে শনিবার অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় আরও অন্তত এক লাখ ১০ হাজার ৭২৫ জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত আগ্রাসনে ২৩ জন নিহত এবং আরও ৮৩ জন আহত হয়েছেন। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন কারণ উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।
উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।
গাজা উপত্যকায় ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি প্রাণঘাতী হামলার অবসান ঘটাতে বুধবার (১৫ জানুয়ারি) যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণা করেছে মধ্যস্ততাকারী দেশ কাতার। রোববার (১৯ জানুয়ারি) থেকে এ যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
তিন ধাপে সম্পন্ন হতে যাওয়া এ চুক্তির প্রথম ধাপে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি থাকবে, গাজার জনবহুল এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে এবং ৩৩ জন জিম্মিকে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি বন্দীর বিনিময়ে মুক্তি দেওয়া হবে।
দ্বিতীয় ধাপে অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হবে এবং ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে।
তৃতীয় এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে, যে কোনও মৃত জিম্মির দেহাবশেষ তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং গাজার জন্য একটি বড় পুনর্গঠন পরিকল্পনা শুরু হবে।
এসবি

