যুদ্ধবিরতি 'সাময়িক', প্রয়োজনে যুদ্ধ শুরুর পূর্ণ অধিকার ইসরায়েলের : নেতানিয়াহু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৫, ০৮:৪৩
ছবি : সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি 'সাময়িক', প্রয়োজনে যুদ্ধ শুরুর পূর্ণ অধিকার রয়েছে ইসরায়েলের বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। শনিবার (১৮ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘হামাসের সঙ্গে চুক্তির পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়িত না হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলকে হামলা শুরু করার অধিকার দিয়েছেন।’
এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শনিবার বলেছেন, গাজা উপত্যকায় হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি রোববার থেকে কার্যকর হবে।’
এসময় তিনি বলেন, ‘ফিলাডেলফি করিডোরে সেনা সংখ্যা কমাবে না ইসরায়েল, পর্যায়ের চুক্তির সময় তা বাড়ানো হবে।’
এর আগে, নেতানিয়াহুর কার্যালয় বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রচার করেছে। যেখানে একজন ‘সিনিয়র রাজনৈতিক কর্মকর্তাকে’ দায়ী করে ফিলাডেলফি করিডোর থেকে সেনাবাহিনী সরে না আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, বুধবার (১৫ জানুয়ারি) কাতার, মিশর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়বস্তু অবশ্য অন্য কথা বলছে।
চুক্তি অনুযায়ী, ‘ইসরায়েল গাজার সাথে সীমান্ত এবং উভয় পক্ষের মধ্যে চুক্তির ভিত্তিতে প্রথম পর্যায় চলাকালীন করিডোর অঞ্চলে ধীরে ধীরে সেনাবাহিনী কমাবে।
এতে আরও বলা হয়, 'প্রথম ধাপের সর্বশেষ জিম্মি মুক্তির পর ৪২ তম দিনে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের সেনা প্রত্যাহার শুরু করবে এবং ৫০ দিনের মধ্যে তা সম্পন্ন করবে।’
উল্লেখ্য, গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের হামলায় প্রায় ৪৭ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে।
গাজা উপত্যকায় ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি প্রাণঘাতী হামলার অবসান ঘটাতে বুধবার (১৫ জানুয়ারি) যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণা করেছে মধ্যস্ততাকারী দেশ কাতার। রোববার (১৯ জানুয়ারি) থেকে এ যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
তিন ধাপে সম্পন্ন হতে যাওয়া এ চুক্তির প্রথম ধাপে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি থাকবে, গাজার জনবহুল এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে এবং ৩৩ জন জিম্মিকে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি বন্দীর বিনিময়ে মুক্তি দেওয়া হবে।
দ্বিতীয় ধাপে অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হবে এবং ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে।
তৃতীয় এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে, যে কোনও মৃত জিম্মির দেহাবশেষ তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং গাজার জন্য একটি বড় পুনর্গঠন পরিকল্পনা শুরু হবে।
গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে নেতানিয়াহু ও তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গত নভেম্বরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। এছাড়া, গাজায় গণহত্যার জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলাও রয়েছে।
এসবি

