হামাস বন্দী মুক্তির তালিকা না দিলে যুদ্ধবিরতি শুরু হবে না : নেতানিয়াহু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:০৭
ছবি : সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস বন্দীদের মুক্তি দিতে যে তালিকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা না পাওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি শুরু হবে না বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
রোববার (১৯ জানুয়ারি) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট নিউজের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আল-জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল এমন তিনজন নারী বন্দির নামের তালিকা এখনও দেয় নি হামাস।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমটি এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানায়নি। তবে এর আগে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হামাসের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াইনেট নিউজ জানায়, হামাস কারিগরি কারণে দেরিকে দায়ী করছে।
এ বিষয়ে হামাসের পক্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে এক বিবৃতি প্রকাশ করে যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তাবলীর প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ‘প্রথম ধাপে মুক্তি পেতে যাওয়া বন্দিদের নামের তালিকা হস্তান্তরে বিলম্বের কারণ কারিগরি ও মাঠ পর্যায়ের।’
এদিকে রোববার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ইসরায়েল-হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও প্রথম ধাপের বন্দী বিনিময় চুক্তি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখনও শুরু হয়নি।
প্রসঙ্গত, গাজা উপত্যকায় ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি প্রাণঘাতী হামলার অবসান ঘটাতে বুধবার (১৫ জানুয়ারি) যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণা করেছে মধ্যস্ততাকারী দেশ কাতার। রোববার (১৯ জানুয়ারি) থেকে এ যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
তিন ধাপে সম্পন্ন হতে যাওয়া এ চুক্তির প্রথম ধাপে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি থাকবে, গাজার জনবহুল এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে এবং ৩৩ জন জিম্মিকে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি বন্দীর বিনিময়ে মুক্তি দেওয়া হবে।
দ্বিতীয় ধাপে অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হবে এবং ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে।
তৃতীয় এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে, যে কোনও মৃত জিম্মির দেহাবশেষ তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং গাজার জন্য একটি বড় পুনর্গঠন পরিকল্পনা শুরু হবে।
গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে নেতানিয়াহু ও তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গত নভেম্বরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। এছাড়া, গাজায় গণহত্যার জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলাও রয়েছে।
এসবি

