গাজায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি কার্যকর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৫, ১৬:৪০
ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রায় তিন ঘণ্টা বিলম্বের পর কার্যকর হয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়নের প্রথম দিনেই তিন বন্দিকে মুক্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইসরাইল। আর এর মধ্য দিয়েই কার্যকর হয়েছে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যকার চুক্তি।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন।
মাজেদ আল-আনসারি বলেছেন, ‘আমরা নিশ্চিত করছি, আজ মুক্তি দেওয়া তিন জিম্মির নাম ইসরায়েলের কাছে পাঠানো হয়েছে।’
হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু ওবাইদা বলেছেন, ‘বন্দী বিনিময় চুক্তির অংশ হিসাবে আমরা আজ যাদের মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি তারা হলেন- রোমি গনেন (২৪), এমিলি দামারি (২৮) ও ডোরন স্টেইনব্রেচার (৩১)।
দীর্ঘ ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ এবং ভয়াবহ বোমাবর্ষণের অবসান ঘটাতে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি করা হয়েছে। তবে শনিবার সন্ধ্যায় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে যুদ্ধে ফিরে যাওয়ার জন্য মার্কিন সমর্থন রয়েছে।
যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায়টি ৪২ দিন স্থায়ী হবে। এ সময় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন তাদের হাতে বন্দি থাকা ৩৩ জন ইসরাইলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে। তাদের মধ্যে তিনজনকে রোববার মুক্তি দেওয়া হয়। ইসরাইল শত শত ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে ও দেশে ফেরত পাঠাবে।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের কাছ থেকে আল জাজিরা জানিয়েছে, হাজার হাজার ফিলিস্তিনি উত্তর ও দক্ষিণ গাজার জাবালিয়া ও রাফাহসহ এমন এলাকায় যেতে প্রস্তুত যেখানে আগে তাদের যেতে দেওয়া হয়নি।
আল জাজিরা জানায়, আজ সকাল থেকে এখানকার লোকেরা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায় ছিল ও রাফাহর দিকে যেতে থাকেন। কিন্তু সেই মানুষগুলো এটাও জানেন যে তাদের বেশির ভাগ বাড়িই সেখানে নেই। তাদের বেশির ভাগ বাড়িই আর দাঁড়িয়ে নেই। যাইহোক, বেশিরভাগ ফিলিস্তিনি বলছেন যে তারা ধ্বংসস্তূপের উপরে তাঁবু বানিয়ে থাকবেন। তারা পরিচিত স্থানগুলো দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন।
এক ফিলিস্তিনি নারী বলেন, আমরা মানুষকে টুকরো টুকরো হতে দেখেছি। তাই এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি একটি সুসংবাদ। আমাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাতে হবে যারা এতে ভূমিকা রেখেছেন এবং যারা আমাদের এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সাহায্য করেছেন।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সরকারি পরিকল্পনার অংশ হিসাবে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পৌরসভাগুলো পুনরায় রাস্তাঘাট চালু ও মেরামতের কাজ শুরু করেছে।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা অফিস জানিয়েছে, রোববার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজায় তাদের আক্রমণে কমপক্ষে ১৯ ফিলিস্তিনি নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হামলায় কমপক্ষে ৪৬ হাজার ৮৯৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্তত ১ লাখ ১০ হাজার ৭২৫ জন আহত হয়েছেন।
ওএফ

