Logo

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের প্রথম দিন

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলসহ নির্বাহী আদেশের জোয়ার

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৫, ১৪:৪৭

অ
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলসহ নির্বাহী আদেশের জোয়ার

ছবি : সংগৃহীত

দ্বিতীয় দফায় নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন সোমবার (২০ জানুয়ারি)। নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) ওভাল অফিসে যোগদানের প্রথম দিনেই একরাশ নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তার অভিষেক শেষে ওয়াশিংটনের ক্যাপিটাল ওয়ান অ্যারেনায় ২০ হাজার সমর্থকের সামনে বসে একরাশ নির্বাহী আদেশে সাক্ষর করেন। পরবর্তীতে তিনি হোয়াইট হাউসে ওভাল অফিসে বসে আদেশে স্বাক্ষর করেন। 

নতুন নির্বাহী আদেশের মধ্যে প্রথমেই তিনি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জারি করা ৭৮টি আদেশ স্থগিত করেন। বাইডেন তার মেয়াদের শেষ দিকে এই আদেশগুলো জারি করেছিলেন, যেগুলোর বেশ কয়েকটি বাস্তবায়ন হয় নি। 

এক আদেশের মাধ্যমে ট্রাম্প দেশের দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে ‘জাতীয় জরুরী অবস্থা’ ঘোষণা করেন। 

অভিবাসন এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আদেশে ট্রাম্প শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচি স্থগিত করেন এবং জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার বাতিল করেছেন। তবে তিনি জানান এই আদেশ আদালতের সিদ্ধান্তে গৃহীত হবে।

আদেশে স্বাক্ষর করার সময় ট্রাম্প স্বীকার করেন যে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার যেহেতু দেশের সংবিধানে নিশ্চিত করা আছে তাই তার এই আদেশ আইনগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব একেবারে হাস্যকর এবং তার বিশ্বাস এই বিধান বদলানোর জন্য ভালো আইনগত যুক্তি আছে।

এছাড়া, তিনি মাদক চক্রগুলোকে বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করেন। 

২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সংসদ কংগ্রেসের কার্যালয় ক্যাপিটল ভবনে হামলার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দণ্ডিত ১ হাজার ৫০০ লোককে ক্ষমা করে আদেশ জারি করেন ট্রাম্প। আদেশে ছয়জনের সাজা কমানো হয়েছে তবে সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। 

আদেশ স্বাক্ষর সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘এরা হচ্ছে জিম্মি, প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন। তাদের জন্য ক্ষমা, পূর্ণ ক্ষমা।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করার প্রক্রিয়া শুরু করার আদেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। পাঁচ বছর আগেও তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আমেরিকাকে প্রত্যাহার করার চেষ্টা করেছিলেন। 

তাছাড়া, এক আদেশের মাধ্যমে তিনি জলবায়ু সংক্রান্ত প্যারিস ক্লাইমেট চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। 

এক আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বাকস্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে স্বাধীন মতের সেন্সরশিপ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 

এক আদেশে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকের কার্যক্রম আরও ৯০ দিন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের এক আইনের অধীনে টিকটকের মালিক কোম্পানি বাইটড্যান্সকে গত রবিবারের (১৯ জানুয়ারি) মধ্যে অ্যাপটির যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম বিক্রি করার কথা- অন্যথায় টিকটক যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হবে। 

ট্রাম্পের আদেশের ফলে টিকটকের জন্য ক্রেতা খোঁজার সময় বাড়লো। তবে বাইটড্যান্স বার বার বলেছে তারা টিকটক বিক্রি করবে না। 

এদিকে ট্রাম্প এক আদেশে আমলাদের নতুন কোন নিয়মাবলী জারি করা নিষিদ্ধ করেন। ট্রাম্প প্রশাসন সরকারী কার্যক্রমের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না নেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। 

নির্বাচনের সময় ট্রাম্প সরকারের আয়তন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এক নির্বাহী আদেশে তিনি ফেডারেল সরকারে সকল বিভাগে নতুন নিয়োগ নিষিদ্ধ করেছেন। শুধু সামরিক বাহিনী এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত এজেন্সি ব্যতিক্রম হবে। 

ফেডারেল সরকারের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সপ্তাহে পাঁচদিন অফিসে এসে কাজ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে কোভিড মহামারির সময় থেকে অনেক দপ্তরে সপ্তাহে তিন বা চার দিন বাসা থেকে কাজ করার প্রথা চালু ছিল।

এসবি

Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন