বন্দি বিনিময়ে দুই মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে আফগানিস্তান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৫, ১৬:২৭
ছবি : সংগৃহীত
মাদক চোরাচালান ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক তালেবান নেতার বিনিময়ে দুই আমেরিকানকে মুক্তি দিয়েছে আফগানিস্তান।
মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) এত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এপি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২০ জানুয়ারি) ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর এই চুক্তি হয়েছিল। তালেবান সরকার এই বন্দি বদলকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের একটি পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসা করেছে।
কাবুলে আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বন্দি বিনিময়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, খান মোহাম্মদকে ২০০৮ সালে দুই মেয়াদে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তার জন্য অজ্ঞাত দুই মার্কিন নাগরিককে বিনিময় করা হয়েছে।
এদিকে আফগান নেতার বিনিময়ে মুক্তি পাওয়া দুই মার্কিন নাগরিকের একজন রায়ান করবেট। তার পরিবার এক বিবৃতিতে তাকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর আগে, ২০২১ সালে মার্কিন সমর্থিত সরকারের পতনের সময় সপরিবারে আফগানিস্তানে বসবাস করা করবেটকে ২০২২ সালের আগস্টে ব্যবসায়িক সফরের সময় তালেবানরা আটক করেছিল।
রায়ানের পরিবার ট্রাম্প ও বাইডেন উভয়ের পাশাপাশি অনেক সরকারী কর্মকর্তাকে রায়ানকে মুক্ত করার প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি তার পরিবার মধ্যস্ততাকারী দেশ কাতারের প্রশংসা করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএনএন ও নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, মুক্তি পাওয়া দ্বিতীয় মার্কিন নাগরিক উইলিয়াম ম্যাককেন্টি। যদিও তার পরিচয় বা আফগানিস্তানে তিনি কী করছিলেন সে সম্পর্কে আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ২০০৮ সালে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ৫৫ বছর বয়সী আফগান নেতা মোহাম্মদ ক্যালিফোর্নিয়ায় বন্দি ছিলেন। মঙ্গলবার কারা ব্যুরো মোহাম্মদকে তাদের হেফাজতে নেই বলে তালিকাভুক্ত করে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মুখপাত্র হাফিজ জিয়া আহমেদ তাকাল বলেন, ‘মোহাম্মদ আফগানিস্তানে পৌঁছেছেন এবং পরিবারের সঙ্গে আছেন।’
এর আগে মোহাম্মদকে আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আটক করা হয় এবং পরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। একটি ফেডারেল জুরি তাকে হেরোইন এবং আফিম সংরক্ষণ করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছিল।
মার্কিন বিচার বিভাগ সে সময় মোহাম্মদকে 'একজন সহিংস জিহাদি ও মাদক পাচারকারী' হিসেবে উল্লেখ করেছিল। তার বিরুদ্ধে রকেট ব্যবহার করে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের হত্যাচেষ্টা করার অভিযোগ আনা হয়। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যাকে যুক্তরাষ্ট্রের মাদক-সন্ত্রাস আইনে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
সদ্য বিদায় নেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতা ছাড়ার আগে তার প্রশাসন করবেট, জর্জ গ্লেজম্যান এবং মাহমুদ হাবিবিকে গুয়ানতানামো বে কারাগারে অবশিষ্ট বন্দীদের একজন মুহাম্মদ রহিমের বিনিময়ে মুক্তি দেওয়ার জন্য একটি চুক্তি করার চেষ্টা করে।
উল্লেখ্য, আটলান্টার এয়ারলাইন মেকানিক গ্লেজম্যানকে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে আফগানিস্তান ভ্রমণের সময় তালেবান গোয়েন্দা পরিষেবা আটক করে। কাবুলভিত্তিক একটি টেলিযোগাযোগ কোম্পানির ঠিকাদার হিসেবে কাজ করা আফগান-আমেরিকান ব্যবসায়ী হাবিবিও ২০২২ সালে নিখোঁজ হন। তবে তালেবানরা হাবিবির থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে ওয়াশিংটনের কর্মকর্তাদের মন্তব্য প্রদানের অনুরোধ করা হলেও তারা সাড়া দেননি বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এপি।
এসবি

