ভারতে ধর্ষণের পর বাংলাদেশি তরুণীকে হত্যা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৫, ০৮:০৯
ভারতের কর্ণাটকে ২৮ বছর বয়সি এক বাংলাদেশি তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) রামমূর্তির কালকেরে লেকের কাছ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, নিহত তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তিনি একটি অ্যাপার্টমেন্টে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা নির্জন এলাকায় মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশি ওই নারী একজন বিবিএমপি (বেঙ্গালুরু পুরসভা) সাফাই কর্মীর স্ত্রী ছিলেন। স্বামী ও তিন সন্তানের সাথে শহরেই থাকতেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা হিন্দুস্তান টাইমসকে এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, ‘নিহত নারী বাংলাদেশি নাগরিক। তিনি ছয় বছর ধরে এখানে বসবাস করছিলেন। তার স্বামীর বৈধ পাসপোর্ট রয়েছে। তিনি মেডিকেল ভিসায় ভারতে এসেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) ওই নারী তার সহকর্মীকে বলেছিলেন যে তার কিছু ব্যক্তিগত কাজ রয়েছে এবং বাড়ি ফিরতে দেরি হতে পারে। তাই সহকর্মীকে তাকে ছাড়াই চলে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু এরপর অনেক রাত পর্যন্ত তরুণী বাড়ি না ফেরায় সেই রাতেই রামমূর্তিনগর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন তার স্বামী।’
পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেই তরুণী স্বেচ্ছায় কোনো নির্জন এলাকায় গিয়েছিলেন। সম্ভবত সেখানে পরিচিত কারও সঙ্গে দেখা করতেই গিয়েছিলেন তিনি। শুক্রবার সকালে তার দেহ পাওয়া যায়। দেখা যায়, পাথরের আঘাতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন তিনি। বাকবিতণ্ডার জেরে খুন হয়ে থাকতে পারে তাকে। আমরা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৩ (ধর্ষণ) এবং ১০৩ (হত্যা) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছি। ওই নারীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্যে পাঠানো হয়েছে। আমরা সেই রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি।’
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে পূর্ব ডিভিশনের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) দেবরাজ ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও ডগ স্কোয়াডকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ‘ শুক্রবার সকালে আমাদের কাছে একটি ফোন আসে। আমাদের জানানো হয়, কালকেরে লেকের কাছে একটি নির্জন এলাকায় এক নারীর দেহ পড়ে আছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই নারীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। এটি একটি জঘন্য অপরাধ। এই বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।’
ওএফ

