ফিলিস্তিনিদের গাজার বাইরে স্থানান্তরের প্রস্তাব দিলেন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৫, ১৪:২৫
ছবি : সংগৃহীত
ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে মিশর ও জর্ডানের মতো প্রতিবেশী দেশে স্থানান্তরিত করার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (২৫ জানুয়ারি) মায়ামি যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এ কথা জানান তিনি।
রোববার (২৬ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প বলেন, তিনি জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহর সঙ্গে টেলিফোনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন এবং রোববার তিনি মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে পারেন।
তিনি বলেন, ‘আমি তাকে (জর্ডানের রাজা) বলেছি যে আমি চাই আপনি আরও দায়িত্ব গ্রহণ করুন। কারণ আমি এখন পুরো গাজা উপত্যকার দিকে তাকিয়ে আছি। গাজা এখন বিশৃংখল অবস্থায় আছে।’
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চাই তিনি (জর্ডানের রাজা) লোক নিয়ে যান।’
তিনি বলেন, ‘আমি চাই মিশর মানুষ নিয়ে যাক। আগামীকাল কোনো এক সময় আমি জেনারেল আল সিসির সঙ্গে কথা বলবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনি পনেরো লাখ মানুষের কথা বলছেন এবং আমরা পুরো ব্যাপারটা পরিষ্কার করে ফেলতে পারি। আপনি জানেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এখানে অনেক সংঘর্ষ হয়েছে। আমি জানি না, কিছু একটা তো করতে হবে।’
গাজাকে 'ধ্বংসাত্মক স্থান' হিসেবে বর্ণনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, 'প্রায় সবকিছুই ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সেখানে মানুষ মারা যাচ্ছে। তাই আমি কিছু আরব দেশের সাথে জড়িত হতে চাই এবং একটি ভিন্ন স্থানে আবাসন তৈরি করতে চাই যেখানে তারা শান্তিতে বসবাস করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘এই পদক্ষেপ সাময়িক বা দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।’
তবে এর আগে বাইডেন প্রশাসন গাজার বাসিন্দাদের অন্যত্র স্থানান্তরিত করার বিরোধিতা করেছিল। সম্ভাব্য শান্তি ও দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পরে গাজাবাসীদের তাদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পক্ষে ছিল।
গত ১৯ জানুয়ারি থেকে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি চলছে, তবে ট্রাম্প গত সপ্তাহে বলেছিলেন যে যুদ্ধবিরতি বজায় থাকবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী নন।
ক্ষমতা গ্রহনের পর ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘এটা আমাদের যুদ্ধ নয়। এটা তাদের যুদ্ধ। আমি মনে করি তারা অন্য দিকে খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি গাজার একটা ছবি দেখলাম। গাজা যেন এক বিশাল ধ্বংসস্তূপের স্থান। সেই জায়গাটা তো আছেই। … এটি সত্যিই অন্যভাবে পুনর্নির্মাণ করতে হবে।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘গাজা সমুদ্রের উপর একটি অসাধারণ স্থান। আবহাওয়সহ সবকিছু ভালো। গাজএক ব্যবহার করে ভালো কিছু করা যেতে পারে।’
এদিকে ইসরায়েলকে দুই হাজার পাউন্ড বিস্ফোরক প্রদানে বাইডেন প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলকে সহায়তা দেওয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত হয়ে আসছে। গত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি নৃশংস হামলায় ৪৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
এর প্রেক্ষিতে গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
এছাড়া, গাজায় নির্বিচারে গণহত্যার জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলাও রয়েছে।
এসবি

