প্রথমদিনেই উত্তর গাজায় ফিরেছেন ৩ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৫, ০৯:২০
ছবি : সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে গত ১৯ জানুয়ারি। এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর চুক্তি অনুযায়ী গাজায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের প্রত্যাবাসনের প্রথমদিন সোমবার (২৭ জানুয়ারি) উত্তর গাজায় ফিরেছেন ৩ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি।
এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে গাজার জনসংযোগ দপ্তর।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘উত্তর গাজার এই বাসিন্দাদের বড় একটি অংশ এতদিন উপত্যকার দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ৪৭০ দিন পর নিজেদের বাড়িতে ফিরছেন তারা।
ইসরায়েলি বাহিনীর ক্রমাগত হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া উত্তর গাজায় এখন কোনো বাড়িঘরই অক্ষত নেই। কিন্তু তারপরও প্রায় ১৫ মাস পর নিজেদের এলাকায় ফিরতে পেরে উচ্ছ্বসিত উত্তর গাজার বাসিন্দারা।
সোমবার সকাল থেকেই নেৎজারিম করিডোর দিয়ে উত্তর গাজায় আসতে শুরু করেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। অনেকেই ঘোড়া কিংবা গাধার গাড়িতে নিজেদের মালপত্র নিয়ে আসেন। উত্তর গাজার কেন্দ্রীয় শহর গাজা সিটির প্রধান সড়কের একটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সামনে ‘গাজায় স্বাগতম’ লেখা ব্যানার টাঙানো ছিল এ সময়।
উত্তর গাজার বাসিন্দা ২২ বছরের তরুণী লামিস আল ইওয়াদি দীর্ঘদিন পর নিজ এলাকায় ফিরতে পেরে খুবই আনন্দিত। বার্তাসংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটি আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের দিন। আমার মনে হচ্ছে- এতদিন আমি মৃত ছিলাম। আজ আমার দেহে ফের জীবন এবং আত্মা ফিরে এসেছে।’ চারিদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধ্বংস্তূপ তাকে হতাশ করতে পারেনি।
এএফপিকে লামিস বলেন, ‘আমরা আবার আমাদের ঘরবাড়ি তৈরি করবো। এমনকি যদি শুধু বালি আর কাদা দিয়ে তৈরি করতে হয়, তবুও।’
গাজায় হামাসের এক মুখপাত্র এএফপিকে জানিয়েছেন, ‘উত্তর গাজায় ফিরে আসা এই বাড়িঘর হারানো এই ফিলিস্তিনিদের সাময়িক আশ্রয় হিসেবে অন্তত ১ লাখ ৩৫ হাজার তাঁবু প্রয়োজন।’
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ আগস্ট ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর সেদিন থেকেই গাজা উপত্যকায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী। টানা ১৫ মাস ধরে চলা সে অভিযানে নিহত হয়েছেন ৪৭ হাজার ৩ শতাধিক ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ১২ হাজার জন এবং গাজার বিভিন্ন এলাকা থেকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে বাধ্য হয়েছেন লাখ লাখ ফিলিস্তিনি।
সূত্র : এএফপি, আনাদোলু এজেন্সি।
এসবি

