শেখ হাসিনার ‘দশা’ হলো সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রীর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৫, ১৮:১৯
ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিলোসি ভুকেভিক। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
মিলোসি ভুকেভিকের এ পতন যেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘দশা’। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ছাত্রদের তীব্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন। এদিকে সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিলোসিরও সেই অবস্থা হলো। তবে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হলেও মিলোসিকে দেশ ছাড়তে হয়নি।
বাংলাদেশে গেল বছরের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। সেটা ক্রমশ সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। এতে সব শ্রেণিপেশার মানুষ যোগ দেন। কারণ বহুদিন থেকেই নানা দুর্নীতি ও দমনপীড়নের কারণে ক্ষোভ বাড়ছিল শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি। এদিকে সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিলোসি ভুকেভিকের সেই অবস্থা। তার বিরুদ্ধেও শিক্ষার্থীরা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আন্দোলন করতে থাকেন। যার ফলে পদত্যাগ করেন মিলোসি।
দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সোমবার দেশটির ছাত্ররা রাজধানী বেলগ্রেডের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অবরোধ করেন। এতে যোগ দেন কৃষকরাও। তারা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করার পরই প্রধানমন্ত্রীর ওপর পদত্যাগের চাপ বাড়তে থাকে।
গত ১৫ নভেম্বর নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৫ জন নিহত হন। এ ঘটনার পর দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, স্টেশন তৈরির সময় দুর্নীতি না করলে এত মানুষকে প্রাণ হারাতে হতো না।
সোমবার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুকিক বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা এবং সরকারে বড় ধরনের বদবদল আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এদিন ছাত্ররা রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রকে সংযোগ করা অটোকোমান্ডা জংশন অবরোধ করেন। এতে করে রাজধানী শহর অচল হয়ে পড়ে।
নভেম্বরে আন্দোলনে নামার পর শিক্ষার্থীদের ওপর প্রতিদিনই হামলার ঘটনা ঘটতে থাকে। কিন্তু আন্দোলন দমে না যেয়ে এটি বাড়তে থাকে এবং একটা সময় ১০০টিরও বেশি শহরে ছড়িয়ে পড়ে। একে একে এই আন্দোলনে সমর্থন জানাতে থাকেন বিচার বিভাগের কর্মকর্তা, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
সোমবার শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করলে এতে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসেন কৃষকরা। তারা তাদের বিশাল বিশাল ট্রাক্টর নিয়ে সেখানে হাজির হন।
রেলস্টেশনের ছাদ ধসে সাধারণ মানুষ নিহত হওয়ার পর দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী গোরান ভেসিক তাৎক্ষণিক পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। কিন্তু তা সত্ত্বেও আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।
এমজে

