নয়াদিল্লি রেলস্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে ১৮ জনের মৃত্যু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯:৩৯
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানী নয়াদিল্লির রেলস্টেশনে যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় ও হুড়োহুড়ির কারণে পদপিষ্ট হয়ে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১ জন নারী ও চারজন শিশু রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে কুম্ভমেলার উদ্দেশে যাত্রা করা পুণ্যার্থীদের জন্য নির্ধারিত দুটি ট্রেন বিলম্বিত হওয়ায় স্টেশনে যাত্রীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এতে ট্রেন ধরতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কি ও হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়ে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, নয়াদিল্লি রেলস্টেশনের ১৩ ও ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে শনিবার রাতে ব্যাপক যাত্রীসমাগম হয়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর ট্রেন দেরির খবর ছড়িয়ে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। কেউ কেউ গুজব ছড়ান, নির্ধারিত দুটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এতে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে একসঙ্গে ছুটতে থাকলে ভিড়ের চাপে পড়ে যান অনেকে। পরে পদপিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন মারা যান, হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।
দিল্লির লোকনায়ক জয়প্রকাশ (এলএনজেপি) হাসপাতাল ও লেডি হার্ডিং হাসপাতালের চিকিৎসকরা এ পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, ভারতীয় রেলওয়ের পক্ষ থেকে প্রথমে পদপিষ্টের ঘটনা অস্বীকার করা হলেও পরে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিবৃতির পর তারা দুর্ঘটনার কথা স্বীকার করে।
এ ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া এক শোক বার্তায় বলেন, ‘নয়াদিল্লি রেলস্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।’
এছাড়া ভারতের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন। নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ রুপি, গুরুতর আহতদের জন্য ২.৫ লাখ রুপি এবং সামান্য আহতদের জন্য ১ লাখ রুপি সহায়তা দেওয়া হবে।
দিল্লি পুলিশের ডিসি জানিয়েছেন, ঘটনার সময় প্রয়াগরাজ এক্সপ্রেস ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিল। একই সময়ে দেরি হওয়া স্বতন্ত্র সেনানি এক্সপ্রেস ও ভুবনেশ্বর এক্সপ্রেসের যাত্রীরাও ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করছিলেন। স্টেশনে ১৫০০-এর বেশি যাত্রী উপস্থিত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
যাত্রীদের অভিযোগ, বিশাল জনসমাগম সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। কুম্ভমেলার মতো বিশাল আয়োজনে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রেল পুলিশ ও দিল্লি পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে রেল মন্ত্রণালয়।
এটিআর/

