Logo

ইসলাম

যেভাবে আনসার সাহাবিরা রাসূলের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন

Icon

নাবিল ওয়ালিদ

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৫, ১৫:১১

যেভাবে আনসার সাহাবিরা রাসূলের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন

রাসুল (সা.) যখন মদিনায় এলেন তখন আনসারী সাহাবিদের দ্বীনি উপকারই হয়নি শুধু, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অনেক উপকার তারা লাভ করেছেন। মদীনায় দুটি গোত্র ছিল, আউস-খাজরাজ। তাদের মাঝে দ্বন্দ্ব লেগেই থাকত। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের মাঝে ঐক্য এনে দেন। তাঁর পরশে মানুষগুলো সোনার মানুষে পরিণত হয়। ধূলোয় ‍ধুসরিত মলিন পাতা যেমন বৃষ্টির পর সজীব দেখায় তেমনি তারা শিরকের অন্ধকার থেকে তাওহিদের ঝরনাধারায় সজীব হন।

জাহিলি যুগের সেই যে পুরোনো ঘাঁ- গোত্রপ্রীতি, গোত্র পরিচয় সব খতম হয়ে যায়। ফলে আউস-খাজরাজ শত্রুতার পরিবর্তে নেক কাজের প্রতিযোগিতায় অগ্রসর হয়। সাদ ইবনে উবাদা, যিনি খাজরাজের নেতা এবং সাদ ইবনে মুয়াজ, যিনি আউসের নেতা- তারা উভয়েই রাসুলের খেদমতে নিজেদের উজাড় করে দেন। অথচ তাঁর আগমনের পূর্বে চিত্র ছিল সম্পূর্ণ উল্টো।

মদিনায় আরো দুটি শক্তিশালী দল ছিল। বনু নাযির ও বনু কুরাইযা। তারা ছিল ইহুদী। এরা মদিনার মানুষদের ঋণ দিয়ে সুদি কারবার করত। আরো বিভিন্নভাবে জ্বালাতন করত। যা ছিল তাদের মজ্জাগত বিষয়। ধীরে ধীরে আল্লাহর রাসুল (সা.) তাদের দাপট, প্রভুত্ব ও ক্ষমতার প্রভাব নিশ্চল করে দেন। একসময় তাদের সবাইকে মদিনা থেকে বিতাড়িত করেন। এভাবেই মদিনার আনসার সাহাবিগণ স্বকীয়তা ফিরে পান।

মদিনা একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়। ইহুদিরা তাদের বক্স-পেটরা নিয়ে ভাগতে থাকে এবং মুনাফিকরা কোণঠাষা হয়ে পড়ে। কারণ যখনই তারা নেফাকি করে তখন কুরআনে আয়াত নাযিল হয় এবং তারা চিহ্নিত হয়ে যায়।

রাসুল (সা.) রহমতের নবী। তাঁর বরকতে মদিনার আকাশে বাতাসে শান্তির প্রলেপ মেখে যায়। তিনি মদিনার খাবার দাবারের বরকতের দোয়া করেন। মদিনার আবহাওয়ার জন্য দোয়া করেন। তিনি মসজিদে নববি প্রতিষ্ঠা করেন। খন্দকের যুদ্ধের সময় শত্রুরা

চতুর্মুখী আক্রমণের পায়তারা করে। তখন রাসুল (সা.) মদিনাকে সুরক্ষা করতে পরিখা খননের নির্দেশ দেন। এতে মদিনাবাসী একটি বিরাট বিপর্যয় থেকে বেঁচে যায়। 

মদিনার অর্থনীতি ছিল কৃষি নির্ভর। আনসার সাহাবিরা ক্ষেত-খামার করতেন। আল্লাহর রাসুল (সা.) আগমনের পর অর্থনীতির চাকা গতিশীল হয়ে ওঠে। খায়বার অভিযানের পর ইহুদিরা রাসুল (সা.) এর কাছে আত্মসমর্পন করে এবং চুক্তি করে যে, তারা কৃষিকাজ করবে এবং উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক মুসলমানরা পাবে। ফলে মুসলিমরা যুদ্ধ-বিগ্রহের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা নির্ভার হয় এবং ইলম ও দাওয়ার কাজে মনোনিবেশ করতে পারে। এই অভিযানের পর মুসলমানরা অর্থনৈতিকভাবে অনেক লাভবান হয়। তাদের মাঝে সচ্ছলতা ফিরে আসে।

অন্যদিকে প্রতিটি যুদ্ধের পর প্রাপ্তগণিমতের মাধ্যমে মদিনায় অর্থনৈতিকসমৃদ্ধি ফিরে আসছিল। সর্বশেষ রাসুলুল্লাহ (সা.) কে পাওয়ার মাধ্যমেই আনসার সাহাবিগণ সবচে' বেশি উপকৃত হন।

তাবুকের যুদ্ধের পর রাসুল (সা.) নবমুসলিমদের অনেক বেশি করে গনিমত দান করলেন। আনসার সাহাবিদের কিছুই দিলেন না। তখন আনসার সাহাবিরা মনে কষ্ট পেলেন। কিছু বলাবলিও করলেন।

তখন রাসুল (সা.) তাদেরকে একত্র করে এমন কিছু কথা বললেন যা দুনিয়ার সমস্ত কিছুর চাইতে উত্তম, এমন কি ঐ সামান্য গণিমত থেকেও! রাসুল (সা.) বললেন, ”আমি দুনিয়ার এসমস্ত তুচ্ছ জিনিস দিয়েছি কিছু মানুষের মন জয় করার জন্য। তোমরা কি চাও না, অন্যরা যখন উট, ভেড়া-বকরি নিয়ে ফিরবে, আর তোমরা আমাকে নিয়ে ফিরে যাবে। যদি হিজরত না হতো তাহলে আমি হতাম আনসারদেরই একজন। মানুষরা যে উপত্যকা দিয়ে চলে, আর আনসাররা যে গিরিপথ দিয়ে চলে- অবশ্যই আমি আনসারদের পথ দিয়েই চলতাম।” (বুখারি- ৪৩৩৭) তারপর তিনি আনসার ও তাদের সন্তানদের জন্য দোয়া করলেন।  

তাহলে নবিজির আগমনে আনসারগণ কী পরিমাণ উপকৃত হয়েছেন!

বলা বাহুল্য যে, দুনিয়ার লাভ ক্ষতির চেয়ে অখিরাতের লাভ-ক্ষতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর আনসার সাহাবিগণ যেভাবে সামাজিক, অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হয়েছিলেন তেমনি রাসুল (সা.) কে নিজেদের মাঝে পেয়ে আরো বেশি উপকৃত হয়েছিলেন।

আইএইচ/

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

আল হাদিস

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন