Logo

ইসলাম

ত্যাগ ও ধৈর্যে আসে পার্থিব জীবনের সুখ

Icon

আমির বিন সুলতান

প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৭:৩৬

ত্যাগ ও ধৈর্যে আসে পার্থিব জীবনের সুখ

দুনিয়ায় পার্থিব জীবনে ভেঙে পড়েননি এমন কোনো মানব নেই। মোটিভেশনাল স্পিকার যারা আপনাদের ধৈর্যের কথা বলে, তারাও একদিন ধৈর্যের কাছে হেরেছে কেউ প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে। কেউ প্রকাশ করে কেউ প্রকাশ করে না।

ভেঙে পড়া এটি দুনিয়ার প্রাকৃতিক নিয়ম ও আল্লাহতায়ালার পরিক্ষা, কোনো না কোনো ভাবে এই পরিস্থিতির শিকার প্রত্যেক মানুষের আসবেই কম আর বেশ। এই ভেঙে পড়া হতে পারে রাজনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক, বৈবাহিক, ব্যবসায়িক বা ধর্মীয়ভাবে ইত্যাদি মানতেই হবে আপনাকে। “আমার সাথে এমন হতে হবে কেনো” এমন বাক্য ছুঁড়া বাদ দিন, নাহলে আপনি পাকাপোক্ত হবেন কি করে, জীবনতো একটা যুদ্ধক্ষেত্র। ধৈর্য আর কৌশলে লড়েই আপনাকে জিততে হবে। মনে রাখবেন যারাই আল্লাহর নৈকট্যে তাদের রব বেশি সবুরের পরিক্ষায় ফেলেন।

নিজেকে ভাঙতে দিন। ঝরা পাতার মত খুচরা আবেগপ্রবণতা গুলো ঝড়তে দিন। ভাঙতে-ভাঙতে শক্ত শিকড়ে পৌঁছে যান। তখন শতো ডিপ্রেশন আর ইমোশন আপনাকে নাড়াতে পারবে না। জীবনে তারায় সফল হয়েছে, যারা প্রতিযোগিতামূলক রিক্স নিয়ে এগিয়েছে। ধর্মীয় ইতিহাসে মিলে, যুগে-যুগে নবী রাসুল সা. থেকে পীর মাশায়েক, মুমীন সালেহীনগন, যারায় দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। যারায় আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করতে চেয়েছে তারায় সবচেয়ে কষ্টের সম্মুখীন হয়েছে এবং ধৈর্যের পরিক্ষা দিয়েছে।  

দুনিয়া যদি ভোগবিলাস আর অধিক সুখের জায়গা হতো আল্লাহর রাসুল সা. বলতেন না। সাহাবী আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, দুনিয়া মুমিনের জন্য জেলখানা এবং কাফিরের জন্য জান্নাত।’ [মুসলিম ২৯৫৬, তিরমিযি ২৩২৪] জেলখানার উদহারনে বুঝায় জীবন্ত মানুষের চারদেওয়ালের বন্দিদশার দূর্বিষহ জীবনযাপন। সুতরাং আপনিতো কাফের নও যে কেবল সুখের আশা করতে পারেন। ত্যাগের মাধ্যমেই অর্জন হয় আখেরাতের জন্য দুনিয়ার প্রধান শস্য অর্জন। 

হ্যাঁ, হতাশ হওয়া যাবে না মুমিন কখনো হতাশ বা নিরাশ হতে পারেন না। কোরআনে আল্লাহ সতর্কের সাথে বলেন, “আমরা আপনাকে সত্য সুসংবাদ দিচ্ছি; আপনি নৈরাশ্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।” “আপন প্রভুর রহমত থেকে কে নিরাশ হতে পারে পথভ্রষ্টরা ব্যতীত? ‘” (সুরা হিজর, আয়াত: ৫৩-৫৬)।

উল্লেখ্য, আয়াতটি হযরত ইব্রাহিম আ.-এর উদ্দেশ্যে নাজিল হয়েছিলো। এতে স্পষ্ট যে মুমিনদের হতাশ না হতে বলা হয়েছে। যারা পরিস্থিতি মোকাবেলা করে সামাল দিতে পারে তারাই সফলকাম। আল্লাহ বলছেন হে মুমিনগণ! ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। ( সূরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৫৩)। সুতরাং  যতই বিপদআপদ আসুক না কেনো জীবনে যতই ভেঙে পড়ুন, ধৈর্যহারা হবেন না। ভুলপথে পা বাড়াবেন না। ধৈর্যের সাথে চলুন। আল্লাহ সবাইকে ধৈর্য ধরার তাওফিক দিন ও মুমিন মুক্তাকীদের সাথে আমাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।

লেখক : প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ইসলাম ধর্ম

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর