Logo

ইসলাম

কুরআনের আলোকে স্রষ্টার পরিচয়

Icon

মুহাম্মদ হেদায়ত উল্লাহ

প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৩:৪৫

কুরআনের আলোকে স্রষ্টার পরিচয়

মানবসভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই মানুষ স্রষ্টাকে জানতে চেয়েছে এই বিশাল মহাবিশ্বের নিয়ন্ত্রক কে, সৃষ্টির পেছনে কার প্রজ্ঞা কাজ করছে, কার হাতে রয়েছে অস্তিত্বের সুতো? কুরআন মানুষের সেই প্রশ্নের শান্ত, সুস্পষ্ট ও যুক্তিসঙ্গত উত্তর প্রদান করে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা নিজেকে পরিচয় করিয়েছেন মানুষের ফিতরাতের সাথে সামঞ্জস্য রেখে-যাতে মানুষ বিভ্রান্ত না হয়, বরং সত্যের দিকে ফিরে আসে।

স্রষ্টার পরিপূর্ণ একত্ব : কুরআন ঘোষণা করে সৃষ্টিজগতের বাস্তবতায় আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তিনি কারো অংশীদার নন, কারো মতোও নন। সুরা ইখলাসে এই সত্তাকে অত্যন্ত গভীর ও সংক্ষিপ্ত ভাষায় ব্যক্ত করা হয়েছে-

১. বলো তিনি আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়

২. আল্লাহ অমুখাপেক্ষী 

৩. তিনি কাউকে জন্ম দেননি ও তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি

৪. আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই। (সূরা ইখলাস)

এই চার আয়াত শুধু তাওহিদের ঘোষণা নয় এটি স্রষ্টার চরম পরিপূর্ণতার পরিচয়পত্র। এখানে আল্লাহর সত্তা, অমরত্ব, অদ্বিতীয়তা এবং ক্ষমতা-সবই উপস্থাপিত হয়েছে অতুলনীয় ভারসাম্যে।

মহাবিশ্বের স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রক: আল্লাহ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেন সৃষ্টির দিকে তাকাতে; আসমানজমিনের নকশা, সুবিন্যস্ত স্তরবিন্যাস এবং নিখুঁত সামঞ্জস্যের মধ্যেই রয়েছে স্রষ্টার পরিচয়ের শক্ত প্রমাণ। আল্লাহ বলেন- ‘যিনি সৃষ্টি করেছেন স্তরে স্তরে সপ্তাকাশ। দয়াময় আল্লাহর সৃষ্টিতে তুমি কোনো খুঁত দেখতে পাবে না; তুমি আবার তাকাইয়া দেখ, কোনো ত্রুটি দেখতে পাও কি?’ (সুরা মুল্কূ আয়াত:  ৩)

সৃষ্টির এই নিখুঁত নির্মাণই প্রমাণ করে এটি কোনো আকস্মিকতা নয়, বরং এক অনন্ত জ্ঞানের অধিকারী স্রষ্টার কাজ।

আলীক নয়, বাস্তবতার স্রষ্টা: কুরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেন, সৃষ্টির প্রতিটি কণা তাঁর জ্ঞানের আওতায়- ‘আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সব আল্লাহরই এবং সবকিছুকে আল্লাহ্ পরিবেষ্টন করে আছেন।’ (আন নিসাূ আয়াত: ১২৬) ‘তিনি সৃষ্টি করেছেন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী যথাযথভাবে এবং তোমাদেরকে আকৃতি দান করেছেন-তোমাদের আকৃতি করেছেন সুশোভন, এবং প্রত্যাবর্তন তো তাঁরই নিকট।’ (সুরা তাগাবুন আয়াত: ৩) সৃষ্টি কেবল এক শূন্য খেলা নয় বরং উদ্দেশ্যপূর্ণ ও সত্যনিষ্ঠ পরিকল্পনার ফল। কুরআন স্পষ্ট বলে- আকাশ ও পৃথিবী এবং যা এদের অন্তর্র্বতী তা আমি ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করি নাই। (সুরা আম্বিয়া আয়াত: ১৬)

সৃষ্টি করতে পারে একমাত্র স্রষ্টাই: মানুষ যা পূজা করে আল্লাহকে বাদ দিয়ে- তা নিজেরাই সৃষ্টি, স্রষ্টা নয়। কুরআন মানুষের এই ভুলকে যুক্তি দিয়ে স্পষ্ট করে। ‘হে লোক সকল! একটি উপমা বর্ণনা করা হলো, অতএব তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোন; তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের পূজা কর, তারা কখনও একটি মাছি সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা সকলে একত্রিত হয়। আর মাছি যদি তাদের কাছ থেকে কোনো কিছু ছিনিয়ে নেয়, তবে তারা তার কাছ থেকে তা উদ্ধার করতে পারবে না, প্রার্থনাকারী ও যার কাছে প্রার্থনা করা হয়, উভয়েই শক্তিহীন।’ (সুরা হজ- আয়াত: ৭৩) অতএব স্রষ্টার পরিচয় স্পষ্ট। সৃষ্টি, পরিকল্পনা, নিয়ন্ত্রণ ও পুনরুত্থান সবই তাঁর একচ্ছত্র ক্ষমতা।

নবী-রাসুলদের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে স্রষ্টার পরিচয়। স্রষ্টার একত্ব, পরিপূর্ণতা এবং মানবজীবনের ওপর তাঁর নিকট পর্যবেক্ষণ- এগুলোই ছিল সকল নবীর দাওয়াতের মূল। কুরআনের আলোকে স্রষ্টার পরিচয় হচ্ছে- এক, শাশ্বত, অদ্বিতীয়, সর্বশক্তিমান, সৃষ্টির মালিক ও নিয়ন্ত্রক, যিনি একই সাথে অতি নিকটবর্তী, দয়াময় এবং প্রজ্ঞাময়। মানুষ যদি সৃষ্টির নকশা, নিজের আত্মচেতনা এবং কুরআনের বার্তা। এই তিনটি বিষয় নিয়ে চিন্তা করে, তবে স্রষ্টার অস্তিত্ব ও পরিচয় যে গভীর যুক্তি ও সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তা অনুধাবন করা কঠিন নয়।

লেখক : প্রভাষক ইসলামিক স্টাডিজ, দশমিনা ইসলামিয়া কামিল এমএ মাদ্রাসা, পটুয়াখালী বরিশাল

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ইসলাম ধর্ম

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর