Logo

ইসলাম

নতুন বছরে ভালো কাজের অঙ্গীকার

Icon

আব্দুস সাত্তার সুমন

প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:২০

নতুন বছরে ভালো কাজের অঙ্গীকার

নতুন বছর মানেই কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা বদল নয়; বরং এটি আত্মসমালোচনা, সংশোধন ও নতুন করে ভালো মানুষ হওয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের জন্য নতুন বছর হতে পারে নেক আমলের পথে ফিরে আসার সূচনা। ইসলাম আমাদের শেখায় সময় আল্লাহর এক মহান নিয়ামত, আর প্রতিটি নতুন দিন হলো আমল বাড়ানোর নতুন সুযোগ।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, তবে তারা নয় যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে। (সূরা আল-আসর ২-৩)। এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয় জীবনের সাফল্য কেবল সৎকর্মের মাধ্যমেই অর্জিত হয়।

পুরোনো বছরের ভুল স্বীকার ও তওবার গুরুত্ব:

নতুন বছরে ভালো হওয়ার প্রথম ধাপ হলো পুরোনো বছরের ভুলগুলো চিহ্নিত করা ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো। (সূরা আন-নূর: ২৪:৩১)

শিশুদের মাঝে যদি এই অভ্যাস গড়ে ওঠে ভুল স্বীকার করা ও সংশোধনের চেষ্টা তবে তারা ভবিষ্যতে আদর্শ মানুষ হয়ে উঠবে।

সত্যবাদিতা ও মানুষের হক রক্ষা:

নতুন বছরে সত্যের পথে চলা ও মানুষের অধিকার রক্ষা করা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা। আল্লাহ বলেন, হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সাথে থাকো। (সূরা আত-তাওবা: ১১৯)

রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, সত্য মানুষকে নেকির দিকে নিয়ে যায়, আর নেকি জান্নাতে নিয়ে যায়।  (সহিহ বুখারি: ৬০৯৪, সহিহ মুসলিম: ২৬০৭)

শিশুদের শেখাতে হবে মিথ্যা, প্রতারণা ও অন্যের হক নষ্ট করা কখনোই সফলতার পথ নয়।

ইবাদত, দাওয়াত ও নেক আমলে অভ্যস্ত হওয়া:

নতুন বছর হোক ইবাদতে মনোযোগী হওয়ার বছর। নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও ভালো কাজের দাওয়াত এসব শিশুদের জীবনে আলো জ্বালায়। আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। (সুরা আল-আনকাবুত: ২৯:৪৫)

রাসুল (সা:) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে উত্তম সে ব্যক্তি, যে মানুষকে ভালো কাজের দিকে আহ্বান করে। (তিরমিজি: ২৬৭৪)

গাছ, পশু-পাখি ও পরিবেশ রক্ষায় ইসলামের শিক্ষা:

ইসলাম শুধু মানুষের নয়, বরং সমগ্র সৃষ্টিজগতের প্রতি দয়ার শিক্ষা দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, যদি কোনো মুসলমান গাছ লাগায়, আর তা থেকে মানুষ বা পশু কিছু খায় তবে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়। (সহিহ বুখারি: ২৩২০) এ কারণে নতুন বছরে শিশুদের গাছ লাগানো, পাখিকে খাবার দেওয়া এসব কাজে উৎসাহিত করা জরুরি।

দান-ছদকা ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো:

নতুন বছরে দান-ছদকা করার অভ্যাস শিশুদের হৃদয়কে নরম করে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা যা কিছু দান করো, আল্লাহ তা ভালোভাবেই জানেন। (সূরা আল-বাকারা: ২:২৭৩) রাসুল (সা:) বলেছেন, দান সদকা বিপদ দূর করে। (তিরমিজি: ৬৬৪)

আদর্শ ছাত্রছাত্রী ও আদর্শ সন্তান হওয়ার শিক্ষা:

ইসলাম জ্ঞানার্জনকে ফরজ করেছে। রাসুল (সা:) বলেছেন, জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ। (ইবনে মাজাহ: ২২৪)

পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, তোমার প্রতিপালক আদেশ করেছেন তোমরা তাঁর ইবাদত করবে এবং পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করবে। (সূরা আল-ইসরা: ১৭:২৩)

নতুন বছর তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা আমাদের চরিত্র বদলে দেয়। শিশুদের হৃদয়ে যদি নতুন বছর মানেই ভালো কাজ, ইবাদত, দয়া ও সত্যের শিক্ষা গেঁথে দেওয়া যায় তবে সেই শিশুরাই একদিন গড়ে তুলবে শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও গর্বিত সমাজ। নতুন বছর হোক, নেক আমলের বছর, সত্যের বছর, দয়ার বছর।

লেখক : প্রাবন্ধিক, মানিকদি, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, বাংলাদেশ

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ইসলাম ধর্ম

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর