Logo

ইসলাম

আজ বিশ্ব যুদ্ধ অনাথ দিবস

ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে দায়িত্ব ও দয়া

Icon

ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:২১

ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে দায়িত্ব ও দয়া

বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ, দাঙ্গা ও সহিংসতার কারণে লাখো শিশু অনাথ হয়ে যায়। এই শিশুদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও সহানুভূতি জানাতে আন্তর্জাতিকভাবে কিছু দেশে "বিশ্ব যুদ্ধ অনাথ দিবস" পালিত হয়। এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজকে অনাথ শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সচেতন করা।

ইসলামে শিশুদের অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোরআন ও হাদিসে অনাথ ও অভাবী শিশুদের দেখাশোনা করার স্পষ্ট নির্দেশ আছে। আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন: "যে ব্যক্তি অনাথদের সম্পদকে অবৈধভাবে দখল করে, সে নিজেই আগুনে দগ্ধ হবে।" (সুরা নিসা :১০) এই আয়াতটি দেখায় যে শিশুদের অধিকার রক্ষা করা ইসলামিক দায়িত্ব। শিশুদের প্রতি অবিচার বা তাদের অধিকার হরণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি একটি অনাথকে আশ্রয় ও খাদ্য দেয়, আমি কিয়ামতের দিন তার সঙ্গে থাকব।" (সহীহ বুখারি: ৬২০১) এতে বোঝা যায় যে অনাথদের প্রতি সহানুভূতি ও সাহায্য করা কেবল মানবিক কাজ নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম।

বিশ্ব যুদ্ধ অনাথ দিবসের গুরুত্ব বর্তমান সময়ে বিশেষভাবে বেড়েছে। সিরিয়া, আফগানিস্তান, ইয়েমেন ও আফ্রিকার কিছু অংশে চলমান যুদ্ধের কারণে লাখো শিশু তাদের পিতামাতাকে হারিয়েছে। তারা খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানসিক সহায়তার অভাবে ভুগছে। ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে এই শিশুদের প্রতি সহায়তা শুধু মানবিক কাজ নয়, বরং নেকিয়াতের কাজও। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি অনাথদের দেখাশোনা করে এবং তাদের অধিকার রক্ষা করে, আল্লাহ তার জান্নাতের দ্বার খুলবেন।" (সহীহ মুসলিম : ২৪৬২) এটি স্পষ্ট করে দেয় যে অনাথদের প্রতি দয়া ও সহানুভূতি ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা শুধু মানবিক কর্তব্য নয়, এটি নেকীর কাজও। কোরআনে আরও বলা হয়েছে: "যারা অভাবী ও অনাথদের দিকে সহানুভূতিশীল, তারা আল্লাহর কাছে প্রিয়।" (সুরা আনআম ১৫১)

অর্থাৎ, অনাথদের দেখাশোনা করা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম পথ। শিশুদের প্রতি অবিচার করা, তাদের উপেক্ষা করা বা পরিত্যাগ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

বিশ্ব যুদ্ধ অনাথ দিবসের মূল বার্তা হলো সমাজের প্রতিটি মানুষকে অনাথ শিশুদের প্রতি দায়িত্বশীল হতে উদ্বুদ্ধ করা। এই দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শিশুদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য, শিক্ষা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।

ইসলাম অনাথদের সুরক্ষা, খাদ্য, শিক্ষা ও মানসিক শান্তি নিশ্চিত করার প্রতি জোর দেয়। শিশুদের প্রতি দয়া ও সহানুভূতি শুধু সমাজকে মানবিক করে না, এটি আল্লাহর নৈকট্য অর্জনেরও মাধ্যম।

বিশ্ব যুদ্ধ অনাথ দিবস কেবল আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ নয়, এটি মানবতার প্রতি আমাদের নৈতিক দায়িত্বের প্রতিফলন। কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, অনাথদের দেখাশোনা করা হলো নেকী ও ধৈর্যের কাজ। প্রতিটি মানুষ, পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে এসে অনাথদের জন্য একটি নিরাপদ, সুস্থ ও শিক্ষাপ্রাপ্ত জীবন নিশ্চিত করতে হবে।

অতএব, এই দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, অনাথ শিশুদের প্রতি সহানুভূতি ও দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আমরা সমাজে শান্তি, ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে পারি। শিশুদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা শুধু নৈতিক নয়, বরং ইসলামিক দায়িত্ব ও নেকিয়াতের এক অনন্য মাধ্যম।

লেখক: ধর্ম বিষয়ক প্রবন্ধকার ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি ইমেইল

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ইসলাম ধর্ম মাদরাসা শিক্ষা

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর