Logo

ইসলাম

পৃথিবী দেখার আনন্দময় শিক্ষা

Icon

আব্দুস সাত্তার সুমন

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৬

পৃথিবী দেখার আনন্দময় শিক্ষা

আল্লাহ তায়ালা আমাদের একটি খুব সুন্দর পৃথিবী তৈরি করে দিয়েছেন। এই পৃথিবীতে আছে উঁচু উঁচু পাহাড়, নীল নীল সমুদ্র, সবুজ মাঠ, ঘন বন, রঙিন ফুল, নানা জাতের পশুপাখি এবং বিভিন্ন রকমের মানুষ। আল্লাহ তায়ালা চান আমরা শুধু এক জায়গায় বসে না থেকে, তাঁর তৈরি এই সুন্দর পৃথিবী ঘুরে দেখি, শিখি এবং চিন্তা করি। ভ্রমণ মানে শুধু বেড়াতে যাওয়া নয়। ভ্রমণ মানে হলো দেখে শেখা, বুঝে নেওয়া এবং আল্লাহকে আরও ভালোভাবে চেনা। কোরআনে ভ্রমণের কথা কেন বলা হয়েছে? 

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে আমাদের স্পষ্টভাবে বলেছেন পৃথিবীতে ঘুরে দেখতে। “বলুন, তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ করো এবং দেখো, আল্লাহ কীভাবে সৃষ্টি শুরু করেছেন।” (সূরা আল-আনকাবুত: ২০)

এই আয়াতটি আমাদের শেখায় ভ্রমণ করলে আমরা শুধু আনন্দই পাই না, বরং আল্লাহর সৃষ্টির রহস্য বুঝতে পারি।

পাহাড় ভ্রমণ: পাহাড় দেখে আমরা কী শিখি? যখন আমরা পাহাড়ে যাই, দেখি বিশাল বড় বড় পাহাড় এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। ঝড়, বৃষ্টি, রোদ সবকিছু সহ্য করেও পাহাড় নড়ে না। তখন আমরা বুঝতে পারি আল্লাহ কত শক্তিশালী। আল্লাহ বলেন, “আমি পাহাড়কে করেছি পৃথিবীর খুঁটি।” (সূরা আন-নাবা: ৭)

পাহাড় আমাদের শেখায় জীবনে শক্ত ও ধৈর্যশীল হতে হবে।

সমুদ্র ভ্রমণ: সমুদ্র আমাদের কী শিক্ষা দেয়? সমুদ্র খুব বড়, গভীর এবং রহস্যময়। তার ঢেউ কখনো শান্ত, কখনো খুব শক্তিশালী। কিন্তু এত বড় সমুদ্রও আল্লাহর আদেশ ছাড়া এক পা এগোতে পারে না। ইরশাদ হয়েছে, “তিনিই সমুদ্রকে মানুষের অধীন করে দিয়েছেন।” (সূরা আল-জাসিয়া: ১২)

সমুদ্র দেখে আমরা শিখি আমরা যত বড়ই হই না কেন, আল্লাহর সামনে সবাই ছোট।

বন, গাছপালা ও ফুল: বনে গেলে আমরা দেখি কেউ পানি দিচ্ছে না, কেউ পরিচর্যা করছে না, তবুও গাছ বড় হচ্ছে, ফুল ফুটছে, ফল ধরছে। আল্লাহ নিজেই তাদের রিজিক দিচ্ছেন। ইরশাদ হয়েছে, “পৃথিবীর সবকিছু আল্লাহর প্রশংসা করে।” (সূরা আল-ইসরা: ৪৪)

গাছপালা আমাদের শেখায় চুপচাপ থেকেও ভালো কাজ করা যায়।

পশুপাখি: পশুপাখি আমাদের কী শেখায়? পাখিরা সকালে বাসা ছেড়ে খাবারের খোঁজে বের হয়, আর সন্ধ্যায় পেট ভরে ফিরে আসে। তারা কালকের চিন্তা করে না। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমরা যদি আল্লাহর উপর সত্যিকারভাবে ভরসা করতে, তবে তিনি তোমাদের রিজিক দিতেন যেমন পাখিদের দেন। (তিরমিজি: ২৩৪৪)

পশুপাখি আমাদের শেখায় আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে।

ভিন্ন মানুষ ও ভিন্ন সংস্কৃতির সাথে দেখা: ভ্রমণে গেলে আমরা দেখি সব মানুষ আমাদের মতো নয়। কারো ভাষা আলাদা, পোশাক আলাদা, খাবার আলাদা। কিন্তু সবাই আল্লাহর সৃষ্টি। ইরশাদ হয়েছে, আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি যেন তোমরা একে অপরকে চিনতে পারো। (সূরা আল-হুজুরাত: ১৩)

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) সফর করেছেন, হিজরত করেছেন, মানুষকে চিনেছেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ভ্রমণ কষ্টের একটি অংশ। (সহিহ বুখারি: ১৮০৪)

এই হাদিস আমাদের শেখায় কষ্ট থাকলেও ভ্রমণ শিক্ষামূলক।

ভ্রমণ মানে শুধু ছবি তোলা নয়। ভ্রমণ মানে আল্লাহর সৃষ্টি দেখে শিক্ষা নেওয়া। পাহাড়, সমুদ্র, বন, মানুষ সবকিছু আল্লাহর নিদর্শন। ভ্রমণ করলে আমরা ছোট হই, আল্লাহ বড় হন। ভ্রমণ আমাদের মানুষ করে।

সর্বোপরি একটা কথা মনে রাখতে হবে- এই পৃথিবীর যা কিছু আমরা দেখি, সবই আল্লাহর হুকুমে নিঃশেষ হয়ে যাবে একদিন। ইরশাদ হয়েছে, “এই পৃথিবীর সবকিছু একদিন শেষ হয়ে যাবে।” (সূরা আর-রহমান: ২৬)

ভ্রমণ থেকে কিছু শিক্ষা:

১. আল্লাহকে ভালোভাবে চেনা যায়।

২. ইমান শক্ত হয়।

৩. মন ভালো থাকে।

৪. জ্ঞান বাড়ে।

৫. অহংকার কমে।

৬. আখিরাতের কথা মনে পড়ে।

লেখক : প্রাবন্ধিক, মানিকদি, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বাংলাদেশ

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ইসলাম ধর্ম

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর