বিপদাপদ মানব জীবনে অতি পরিচিত একটি দিক। ব্যক্তি,পরিবার, পরিবেশ বা জাতীয় পর্যায়ে কোন না কোন ভাবে আমরা বিপদের সম্মুখীন হয়েই থাকি। সুখ- দুঃখ,শান্তি- অশান্তি ও সুদিন-দুর্দিন একটি অপরটির সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। একটি ছাড়া অপরটি যেন পূর্ণতা পায় না। কখনো বিপদে আক্রান্ত হয়নি বা হয় না, সমাজে এমন লোক পাওয়া অসম্ভব। দুঃখ-কষ্ট অনেকের নিত্যদিনের সঙ্গী। জেনে রাখা ভালো, কোন মুসিবতই আল্লাহর হুকুম ছাড়া আসে না। যে কেউ আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে আল্লাহ তার অন্তরে হেদায়েত দান করেন। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞাত। (সূরা আত-তাগাবুন-১১)
মানুষ যত দুঃখ কষ্টের সম্মুখীন হয় তার প্রধান দুটি কারণ।
১. কর্মের ফলস্বরূপ। ইরশাদ হয়েছে, তোমরা তোমাদের কর্মের ফলেই বিপদের নিপতিত হও আর তিনি অনেকে ক্ষমা করেন। (সূরা:শূরা-৩০)
২. সমুন্নত মর্যাদা ও উঁচু পদে পদায়ন করার জন্য। রাসূল সা. এরশাদ করেন, আল্লাহ যার ভালো চান তাকে বিপদ দেন। (সহিহ বুখারি)
দ্বীনদারি অনুপাতে পরীক্ষা
দুনিয়ার জীবনে সর্বাধিক বিপদ ও সংকটা পূর্ণ জীবন পার করেছেন নবী ও রাসুলগণ। এরপর পর্যায়ক্রমে যে যতটা সৎ ও দীনদার তার দুনিয়ার জীবনী ততটা পরীক্ষা ও বিপদ এসেছে। এ প্রসঙ্গে রাসুল সা.এরশাদ করেন, সকল মানুষ অপেক্ষা নবীগণই অধিকতর কঠিন বিপদের সম্মুখীন হন। অতঃপর তাদের চেয়ে নি¤œমানের ব্যক্তি এবং তারপর তাদের যে নি¤œমানের ব্যক্তিগণ অপেক্ষাকৃত হালকা বিপদে আক্রান্ত হন। মানুষ তার দ্বীনের (পূর্ণতার) পরিমাণ অনুযায়ী বিপদগ্রস্ত করা হয়। সুতরাং তার দ্বীনে যদি মজবুতি থাকে তবে ঠিক সেই পরিমাণ তার বিপদও কঠিন হয়ে থাকে। আর যদি তাঁর দ্বীনে দুর্বলতা থাকে তবে তাঁর দ্বীন অনুপাতে তার বিপদও হালকা হয়। বিপদ এসে বান্দার শেষে এই অবস্থা হয় যে, সে জমিনে চলাফেরা করে অথচ তার কোন পাপ অবশিষ্ট থাকে না। ( জামে তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ)
বিপদ মুক্তির আমল
জীবনে ঘাত-প্রতিঘাত ও বিপদ-আপদে আক্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক একটি বিষয়। তাই উদ্বিগ্ন ও বিচলিত না হয়ে আল্লাহমুখী হওয়া এবং বিপদ মুক্তির দোয়া করা উচিত। কেননা আল্লাহ বলেন , আমি তার গলদেশের শিরা অপেক্ষা বেশি নিকটবর্তী। (সূরা: কাফ-১৬)
১. দরূদ পাঠ করা: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রা. বলেন, যে পর্যন্ত তুমি তোমার নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর দরূদ না পড়বে ততক্ষণ দুআ আসমানে যাবে না, আসমান-যমীনের মাঝে থেমে থাকবে। (জামে তিরমিযী ১/১১০)
২. বেশি বেশি ইসতেগফার করা : ইবনে আব্বাস রা সূত্রে বর্ণিত রাসূল সা.এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ইস্তেগফারকে আবশ্যক করে নিবে আল্লাহ তাআলা তার সকল সংকট থেকে উত্তরণের উপায় বের করে দিবেন । সব ধরনের চিন্তা দূর করে দিবেন এবং এমন উৎস থেকে রিজিক দিবেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না। (সুনানে আবু দাউদ ১৫১৮ )
৩. দোয়া করা: বিপদের সময় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দো'আ পড়তেন।
বাংল উচ্চারণ : “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল আজিমুল হালিম। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুল আরশিল আজিম। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়া রাব্বুল আরদি ওয়া রাব্বুল আরশিল কারিম।”
অর্থ : “পরম সহনশীল ও মহান আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। আরশের মহান অধিপতি আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। আসমান ও জমিনের এবং সম্মানিত আরশের সম্মানিত অধিপতি আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই।” (সহিহ মুসলিম: ৬৬৭২)
লেখক : আলেম, প্রাবন্ধিক

