আসামি সাজিয়ে চাঁদাবাজির ঘটনায় ওসি, আইনজীবীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা
আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ২১:০২
ছবি : সংগৃহীত
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত (ভিকটিম) সাগরের মৃত্যু সনদপত্রের ফটোকপি দিয়ে আত্মীয় সেজে মিথ্যা পরিচয়ে মামলা দায়েরপূর্বক আসামি বানিয়ে নিরপরাধ মানুষদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে রাজধানীর শাহ নিরপরাধ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
পরস্পর যোগসাজশে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে মিথ্যা পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে করা এ মামলায় আসামিদের তালিকায় তিনজন আইনজীবীও রয়েছেন।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিএম ফারহান ইশতিয়াকের আদালতে ভিকটিম সাগরের প্রকৃত মা বিউটি আক্তার বাদী হয়ে নালিশি অভিযোগে (সি আর) মামলাটি দায়ের করেন।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফৌজদারি কার্যবিধি-র ২০০ ধারায় বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট বিচারক পরে আদেশ দিবেন বলে জানিয়েছিলেন।
তবে আদালতের কার্যক্রম চলাকালীন সময় বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কোনো আদেশ দেওয়া হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন বাদীর পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী মাহবুব হাসান রানা।
তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত মো. সাগর হত্যা নিয়ে পরিবারের করা একটি মামলা থাকার পরও নিহতের মৃত্যু সনদপত্রের ফটোকপি দিয়ে প্রতারণার উদ্দেশ্যে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার কথা বলে চাঁদাবাজির মাধ্যমে টাকা চাওয়ার অপরাধ করেছেন আসামিরা।
আসামিরা হলেন, শাহ আলী থানার ৯(৩)২৫ নং মামলার বাদী খন্দকার নূরে আমীন সিদ্দিক, মামলার ৩ জন আইনজীবী নাসিম উদ্দিন মো, বায়েজিদ, আহসান হাবিব ও আশরাফুল ইসলাম, সাক্ষী আব্বাস আলী ও তাহের মালতিয়া এবং শাহ আলী থানার পুলিশ পরিদর্শক (নি:) মো, মতিউর রহমান ও অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো, শফিকুল ইসলাম।
মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গত বছর ১৯ জুলাই গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়। এই ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে মিরপুর থানায় মামলা করেন। এ মামলায় কিছু আসামি গ্রেপ্তার হয়।
এরপর ১ হতে ৬ নং আসামিরা উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে ভিকটিমের মায়ের দায়েরকৃত ওই (জিআর) মামলা প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য আদালতের সংশ্লিষ্ট সাধারণ নিবন্ধন (জিআর) শাখায় রক্ষিত মামলার নথি থেকে কৌশলে নিহত সাগরের মৃত্যু সনদপত্রের ফটোকপি সংগ্রহ করে। পরে শাহ আলী থানা এলাকায় সাগরের মৃত্যুর ঘটনাস্থল দেখিয়ে মামলার ১ নম্বর আসামি খন্দকার নূর আমীন সিদ্দিক নিজেকে সাগরের বোন জামাই উল্লেখ করে গত ১০ ফেব্রুয়ারি সি.এম.এম আদালতে নালিশি (সি,আর) মামলা মামলা করে। যা শাহ আলী থানার পুলিশ পরিদর্শক মতিউর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)শফিকুল ইসলামের সহযোগিতায় শাহ আলী থানার ৯ (৩) ২৫ নং মামলা হিসেবে রজ্জু হয়।
পরবর্তীতে আসামিরা একে অপরের সহায়তায় তাদের দায়ের করা মামলায় আসামিদের নিকট হতে টাকার বিনিময়ে হলফনামা তৈরি করে শাহ আলী থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার সহযোগিতায় অভিযোগপত্রের (চার্জশিট) নাম বাদ দেওয়া হবে মর্মে অন্য আসামিরা টাকা গ্রহণ করে।
- এমআই

