১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:১২
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় টিএফআই (টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন) ও জেআইসি (জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল) সেলে গুম-খুনের মাধ্যমে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় হেফাজতে থাকা ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (২২ অক্টোবর) সাড়ে ৮টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
এছাড়া গুমের অভিযোগে করা দুটি মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। আর গত বছরের ১৮ ও ১৯ জুলাই রামপুরায় গণহত্যা চালানোর অভিযোগে করা মামলায় শুনানির জন্য ৫ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
এর আগে সকাল শোয়া ৭টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের রাজধানীর পুরাতন হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। হাজিরার আগে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ১৫ সেনা কর্মকর্তার জামিনের আবেদন করেন।
ট্রাইব্যুনাল ওই জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দুই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে এক মামলায় ১৭ জন এবং অন্যটিতে ১৩ জনের নাম রয়েছে। দু’টিতেই শেখ হাসিনার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মোট ২৩ সেনা কর্মকর্তার মধ্যে ১৫ জন বর্তমানে হেফাজতে রয়েছেন।
ট্রাইব্যুনালে হাজির ১৫ সেনা কর্মকর্তা হলেন—
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, মেজর জেনারেল মোস্তফা সরোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম, কর্নেল মশিউল রহমান জুয়েল, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল কবির আহম্মেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মখচুরুল হক (অব.), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার ও কর্নেল কেএম আজাদ।
এদিকে, সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজিরকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ভোর থেকেই হাইকোর্টের মাজারগেট, কাকরাইল, মৎস্য ভবন ও পল্টন এলাকায় পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাইব্যুনাল ও আশপাশের এলাকায় বহুমাত্রিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

