Logo

আইন ও বিচার

ব্যাংকের ভোল্ট ব্যবহার আইন ও নীতিমালা

Icon

আইন ও আদালত ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ১২:১৬

ব্যাংকের ভোল্ট ব্যবহার আইন ও নীতিমালা

ব্যাংক ভোল্ট হলো ব্যাংকের সবচেয়ে নিরাপদ সংরক্ষণস্থান যেখানে নগদ টাকা, স্বর্ণ, মূল্যবান দলিল, বন্ড, আমানতকারীর সেফটি ডিপোজিট বক্সসহ গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ রাখা হয়। ভোল্ট ব্যবস্থাপনা এমন একটি ক্ষেত্র যা কঠোর আইন, নিয়ন্ত্রক নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করে পরিচালিত হয়। গ্রাহকের সম্পদের নিরাপত্তা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বজায় রাখতে ভোল্ট কার্যক্রমের স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল নীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভোল্ট ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য হলো গ্রাহকের সম্পদ নিরাপদে সংরক্ষণ, ব্যাংকের নগদ সম্পদ ও রিজার্ভ মজুত রাখা, মূল্যবান কাগজপত্র, সরকারি বন্ড এবং গোপন নথি সংরক্ষণ, সেফটি ডিপোজিট লকার পরিচালনা, জালিয়াতি প্রতিরোধ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশে ব্যাংক ভোল্ট সংক্রান্ত আইন ও নীতিমালা : 

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ (সংশোধিত)অনুযায়ী ব্যাংকের সংরক্ষিত সম্পদ রক্ষায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। নগদ সংরক্ষণের সীমা, রিজার্ভ এবং রিপোর্টিং বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারণ করে।

প্রতিটি শাখায় ভোল্ট ব্যবস্থাপনা ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা অনুসারে করতে হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা :

বাংলাদেশ ব্যাংক ভোল্ট ও নগদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক সার্কুলার জারি করেছে, যেখানে বলা হয়েছে-

ভোল্ট কন্ট্রোল রেজিস্টার রক্ষণাবেক্ষণ, ভোল্ট থেকে নগদ প্রবেশ/বহির্গমন প্রতিদিন রেকর্ড করতে হবে। চাবি ব্যবস্থাপনা- Dual Key System বাধ্যতামূলক (দুই কর্মকর্তার যৌথ উপস্থিতিতে ভোল্ট খোলা)।

ভোল্টে নগদের সীমা শাখার আকার, ব্যবসায়িক পরিমাণ ও অবস্থানের ভিত্তিতে নগদ খরসরঃ নির্ধারণ। অতিরিক্ত নগদ বাংলাদেশ ব্যাংক বা ট্রেজারিতে জমা দিতে হয়। ভোল্টে লকার ব্যবস্থাপনা অর্থাৎ Know Your Customer (KYC) বাধ্যতামূলক। লকার অ্যাক্সেস লগ রাখতে হবে। লকারে অবৈধ দ্রব্য সংরক্ষণ নিষিদ্ধ (Explosives, Narcotics, Illegal Weapons)।

দণ্ডবিধি ও প্রতারণা প্রতিরোধ আইন :

ভোল্ট থেকে সম্পদ চুরি বা আত্মসাৎ- দণ্ডবিধির ৩৭৯, ৪০৬, ৪০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য। জাল নথি বা জাল টাকার সংরক্ষণ- মুদ্রা জালিয়াতি দমন আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয়।

অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং নীতিমালা (Standard Operating Procedures -SOP) : যেকোনো ব্যাংকে ভোল্ট ব্যবস্থাপনার সাধারণ নীতি- ভোল্ট খোলা ও বন্ধের প্রোটোকলে Dual Custodian Rule : ভোল্ট খোলার সময় Branch Manager/Cash in Charge আরেকজন কর্মকর্তা উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক।

প্রতিদিন ভোল্ট খোলার সময় ভিডিও রেকর্ডিং রাখা হয় (বেশিরভাগ ব্যাংকে)। ভোল্ট বন্ধের পর সিল/লক চেক করা হয় এবং দিনশেষের ব্যালেন্স মিলিয়ে লেজারে এন্ট্রি দিতে হয়।

চাবি ও কোড ব্যবস্থাপনা ; ভোল্টের দুই চাবি দুই কর্মকর্তার কাছে থাকে। ডিজিটাল ভোল্ট হলে PIN/Passcode গোপনীয়ভাবে সংরক্ষণ করা হয়। চাবি হারালে অবিলম্বে রিপোর্ট ও লক-চেঞ্জ বাধ্যতামূলক।

এছাড়া রয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। CCTV 24/7 নজরদারি, মেটাল ডোর, বায়োমেট্রিক অ্যাক্সেস, Alarm system with sensor, Fireproofing I temperature control, সেফটি ডিপোজিট লকার নীতিমালা

লকার বরাদ্দে আবেদনকারীকে KYC/AML যাচাই করতে হয়। চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করার পর লকার বরাদ্দ দেয়া হয়। লকার ভাড়ার বার্ষিক চার্জ রয়েছে।

লকার পরিচালনায় গ্রাহক ও ব্যাংক কর্মকর্তার দ্বৈত চাবি ব্যবহারে লকার খোলা হয়। প্রতিবার লকার ব্যবহারের লগ সংরক্ষণ জরুরি। সন্দেহজনক লকার কার্যক্রম ব্যাংক FIU (Financial Intelligence Unit)  কে রিপোর্ট করতে পারে।

লকার সিল করা / বাজেয়াপ্তকরণ :

নি¤œক্ষেত্রে লকার সিল বা বাজেয়াপ্ত হতে পারে- চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ ও ভাড়ার বকেয়া, আদালতের আদেশ, মানিলন্ডারিং বা অপরাধ তদন্ত সংক্রান্ত নির্দেশনা।

ব্যাংক ভোল্ট পরিচালনা এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম যেখানে কঠোর নিরাপত্তা, আইনগত কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলা আবশ্যক। গ্রাহকের অর্থ ও সম্পদ সুরক্ষায় সঠিক নীতি অনুসরণ করা ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি করে এবং আর্থিক খাতকে আরও স্থিতিশীল করে। 

এনএ

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

আইন ও আদালত

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন