নিরাপদ খাদ্য আইনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন
আইন ও আদালত ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ১২:১৬
নিরাপদ খাদ্য আইন কার্যকর হলেও মাঠপর্যায়ে ভেজাল প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই- এমন অভিযোগ ভোক্তা ও বিশেষজ্ঞদের। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন, ব্যবসায়ী, কর্তৃপক্ষ ও সচেতন ভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে ভেজালের চিত্র। রাজধানীর শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী, কাপ্তান বাজার, কারওয়ান বাজার, নয়াবাজার ও বিভিন্ন স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যায় অনেক পণ্যেই ‘ফরমালিনমুক্ত’ স্টিকার থাকলেও কোনো পরীক্ষার কাগজপত্র নেই।
মসলা ভেজাল, হলুদে কৃত্রিম রং, মরিচে ইটগুঁড়ো, জিরায় ক্ষতিকর রাসায়নিক অস্বাভাবিক নয়। দুধে পানি ও স্টার্চ মেশানো ‘সাধারণ নিয়ম’ বলেই বাংলাদেশের খবরকে মন্তব্য করেন কিছু পাইকার। এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ‘খরচ সামলাতে না পারলে ব্যবসা চলে না।
সবাই কম-বেশি মেশাতে বাধ্য।’ নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেও প্রয়োগে রয়েছে নানা বাধা। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (BFSA) এক কর্মকর্তা জানান, “সারা দেশে হাজারো বাজার তদারকি করতে আমাদের জনবল যথেষ্ট নয়।”
খাদ্য নমুনা পরীক্ষায় ৭-১৫ দিন সময় লাগে। ফলাফল আসার আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যাচ বাজারে বিক্রি শেষ হয়ে যায়। ভেজাল ধরা পড়ার পরও ব্যবসায়ীরা সহজে জামিন পেয়ে যান; দীর্ঘসূত্রতায় শাস্তির ভয় কম। ক্ষুদ্র খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারীরা জানান, ‘আইন মেনে চলতে আধুনিক যন্ত্রপাতি প্রয়োজন, কিন্তু আর্থিক প্রণোদনা বা স্পষ্ট নির্দেশনা নেই।’
বড় শিল্পকারখানাগুলো তুলনামূলকভাবে মান বজায় রাখলেও ছোট উদ্যোক্তারা সক্ষমতার সংকটে ভোগেন। ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়লেও প্রতিকার পাওয়ার প্রক্রিয়া জটিল। অনেকেই অভিযোগ করেন- ‘অভিযোগ করতে গেলে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়, আবার ঘটনার প্রমাণ জোগাড় করা কঠিন।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ দেখা গেছে। যেমন- কয়েকটি বড় ভেজাল কারখানা বন্ধ, স্কুল-কলেজে খাদ্য নিরাপত্তা প্রচারণা, কিছু বাজারে পোর্টেবল টেস্টিং কিট কার্যক্রম। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে এগুলো এখনো শহরকেন্দ্রিক সীমিত অগ্রগতি।
নিরাপদ খাদ্য আইন বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলেও বাস্তবতায় তার কার্যকারিতা দুর্বল। প্রতিদিনই নাগরিকেরা ভেজালের ঝুঁকিতে থাকছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন- কার্যকর নজরদারি, প্রযুক্তি-নির্ভর পরীক্ষাব্যবস্থা ও কঠোর আইনি প্রয়োগ ছাড়া নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা অসম্ভব।
এনএ

