আকাশযাত্রার নিরাপত্তা
পাইলট, কেবিন ক্রু ও যাত্রী সবার সম্মিলিত দায়িত্ব
আইন ও আদালত ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৪৩
আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় যাত্রীবাহী বিমান ভ্রমণ দ্রুততম ও তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বাহন হিসেবে পরিচিত। তবে এই নিরাপত্তা কোনো একক পক্ষের প্রচেষ্টায় নিশ্চিত হয় না। পাইলট, বিমানবালা (কেবিন ক্রু) এবং যাত্রী- এই তিন পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপরই নির্ভর করে একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল আকাশযাত্রা।
প্রথমত, পাইলটের দায়িত্ব সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। বিমানের নিরাপদ উড্ডয়ন, নেভিগেশন ও অবতরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাকে আবহাওয়া পরিস্থিতি, কারিগরি সক্ষমতা এবং বিমান চলাচল সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বিধি মেনে চলতে হয়। যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তা সরাসরি তার দক্ষতা, সতর্কতা ও পেশাদার সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িত। সামান্য অবহেলা বা নিয়ম লঙ্ঘন ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
দ্বিতীয়ত, বিমানবালা বা কেবিন ক্রুরা কেবল যাত্রীসেবা প্রদানকারী নন; তারা মূলত আকাশে নিরাপত্তার প্রথম সারির রক্ষক। জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের দিকনির্দেশনা দেওয়া, সিটবেল্ট, লাইফ জ্যাকেট ও জরুরি নির্গমন পথ সম্পর্কে সচেতন করা তাদের অন্যতম দায়িত্ব। যাত্রীদের আচরণ পর্যবেক্ষণ, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি দ্রুত পাইলটকে অবহিত করাও তাদের দায়িত্বের অংশ।
তৃতীয়ত, যাত্রীদের দায়িত্ব প্রায়ই অবহেলিত হয়, অথচ এটি সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিমানে ওঠার পর নিরাপত্তা নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শোনা, সিটবেল্ট বাঁধা, মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারে নিয়ম মেনে চলা এবং কেবিন ক্রুর নির্দেশনা অনুসরণ করা যাত্রীদের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। অযথা হৈচৈ, অসহযোগিতা বা নির্দেশ অমান্য শুধু নিজের নয়, অন্য যাত্রীদের নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে।
বিমান চলাচল সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী, বিমানের ভেতরে শৃঙ্খলা ভঙ্গ, ক্রুদের কাজে বাধা প্রদান বা নিরাপত্তা নির্দেশ অমান্য করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই সচেতন ও দায়িত্বশীল যাত্রী হওয়া কেবল ভদ্রতার বিষয় নয়, এটি আইনেরও দাবি।
বিকেপি/এনএ

