ওসমান হাদি হত্যা : সঞ্জয় ও ফয়সালের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:০৮
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই আসামি সঞ্জয় চিসিম ও মো. ফয়সাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালত তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন জানান, আসামিরা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ। আদালত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে ১৫ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে মানবপাচারকারী হিসেবে পরিচিত সিমিরন দিও ও সঞ্জয় চিসিমকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরবর্তীতে এ মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ১৮ ডিসেম্বর প্রথম দফায় তিন দিন এবং ২১ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। দুই দফার রিমান্ড শেষে ২৬ ডিসেম্বর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। ৩০ ডিসেম্বর তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
অন্যদিকে, ১৬ ডিসেম্বর র্যাব-১১ নরসিংদী থেকে ফয়সালকে আটক করে। পরে তাকে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। ৩০ ডিসেম্বর তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রিমান্ড শেষে আদালতে আনা হলে সঞ্জয় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে রাজি হন। ফয়সালকেও জবানবন্দি দিতে নিয়ে আসা হয়। অন্য আসামি সিবিয়নকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ওসমান হাদি হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া চারজন সাক্ষীও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগর বক্স-কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে করে আসা দুর্বৃত্তরা চলন্ত রিকশায় থাকা ঢাকা-৮ আসনের স্বত্রন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদিকে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর ওসমান হাদি মারা গেলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
এমবি

