প্রকাশ্য স্থানে ময়লা ফেলা : আইন প্রয়োগে দুর্বল
আইন ও আদালত ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৬
পরিচ্ছন্ন পরিবেশ সুস্থ সমাজের অন্যতম প্রধান শর্ত। অথচ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে দেখা যায়, রাস্তাঘাট, ফুটপাত, নদী-খাল কিংবা উন্মুক্ত স্থানে নির্বিচারে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। এই বাস্তবতায় যত্রতত্র ময়লা ফেলার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
আইন অনুযায়ী, প্রকাশ্য স্থানে ময়লা ফেলা দণ্ডনীয় অপরাধ।
অনেক এলাকায় এর জন্য অর্থদণ্ড কিংবা স্বল্পমেয়াদি শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসব আইনের প্রয়োগ খুবই দুর্বল। ফলে মানুষ আইন সম্পর্কে জানলেও তা মানতে আগ্রহী হয় না। শাস্তির ভয় না থাকলে সচেতনতা একা খুব বেশি কার্যকর হয় না- এ কথা বাস্তব অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত।
যত্রতত্র ময়লা ফেলার ফলে ড্রেন বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, রোগজীবাণু ছড়ায় এবং পরিবেশের সৌন্দর্য নষ্ট হয়। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া কিংবা ডায়রিয়ার মতো রোগের বিস্তারের পেছনে অপরিচ্ছন্নতা বড় ভূমিকা রাখে।
অথচ সামান্য সচেতনতা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে এসব সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
এক্ষেত্রে শুধু শাস্তি নয়, শাস্তির পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। স্কুল-কলেজে পরিবেশ শিক্ষা জোরদার করা, গণমাধ্যমে প্রচার চালানো এবং স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে, যারা আইন ভঙ্গ করবে তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে অন্যদের জন্য তা সতর্কবার্তা হয়ে ওঠে।
পরিশেষে বলা যায়, যত্রতত্র ময়লা ফেলার শাস্তি কোনো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নয়; বরং এটি একটি সুস্থ, সুন্দর ও বাসযোগ্য সমাজ গড়ে তোলার অপরিহার্য উপায়। আইন প্রয়োগ ও নাগরিক দায়িত্ববোধ একসঙ্গে কার্যকর হলেই আমরা পরিচ্ছন্ন পরিবেশের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে পারব।
বিকেপি/এনএ

