Logo

আইন ও বিচার

গৃহকর্মী নির্যাতন : নীরবতা ভাঙার সময় কি আসেনি?

Icon

আইন ও আদালত ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৩

গৃহকর্মী নির্যাতন : নীরবতা ভাঙার সময় কি আসেনি?

দেশে গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনা দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পত্রিকার পাতায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিংবা মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে প্রায়ই উঠে আসছে শিশু ও নারী গৃহকর্মীদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের চিত্র। প্রশ্ন হলো- এটি কি কেবল নৈতিক অবক্ষয়, নাকি আইনের ব্যর্থতা?

একটি ভুল ধারণা সমাজে প্রচলিত যে গৃহকর্মীরা পূর্ণাঙ্গ আইনি সুরক্ষা পান না। বাস্তবে এটি পুরোপুরি সত্য নয়। বাংলাদেশের বিদ্যমান বিভিন্ন আইনেই গৃহকর্মীদের সুরক্ষার বিধান রয়েছে, যদিও তা খণ্ডিত ও দুর্বলভাবে প্রয়োগ হচ্ছে।

গৃহকর্মীর ওপর শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন হলে প্রযোজ্য হতে পারে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০, ধারা ৩২৩/৩২৫: ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা, ধারা ৩২৬: গুরুতর জখম, ধারা ৩০৭: হত্যাচেষ্টা, ধারা ৩৫৪: শালীনতা লঙ্ঘন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০, শিশু বা নারী গৃহকর্মীর ওপর নির্যাতনে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

শিশু আইন, ২০১৩ শিশু গৃহকর্মী হলে তার সুরক্ষা রাষ্ট্রের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব। মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-জোরপূর্বক গৃহকর্মে নিযুক্ত করা হলে এ আইন প্রযোজ্য হতে পারে। সরকার ২০১৫ সালে ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতিমালা’ প্রণয়ন করলেও এটি এখনো পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপ নেয়নি। ফলে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত নয়, কাজের সময়সীমা অস্পষ্ট। অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা নেই নীতিমালা আইনের শক্তি না পাওয়ায় নির্যাতনকারীরা প্রায়ই পার পেয়ে যায়।

গৃহকর্মীদের ওপর নির্যাতন বৃদ্ধির কারণ হিসেবে সামাজিক ও আইনি অদৃশ্যতা, দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতা,অভিযোগ জানাতে ভয় ও আশ্রয়হীনতা,আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উদাসীনতা রয়েছে বলে অভিমত প্রকাশ করেন মানবাধিকারকর্মীরা। বিশেষ করে শিশু গৃহকর্মীরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকে। গৃহকর্মী নির্যাতন কোনো "ঘরের ভেতরের বিষয়” নয়; এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন। রাষ্ট্র যদি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বারের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড. শহিদুল্লাহ মিয়া বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ‘নির্যাতন বন্ধে গৃহকর্মী সুরক্ষা নীতিমালাকে দ্রুত আইনে রূপান্তর করতে হবে। এছাড়া, শিশু গৃহকর্মী নিয়োগে কঠোর নিষেধাজ্ঞা, বিশেষ হটলাইন ও অভিযোগ সেল, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আইন আছে, কিন্তু ন্যায়বিচার নেই। এই বাস্তবতা বদলাতে না পারলে গৃহকর্মীদের রক্তচাপা কান্না আমাদের বিবেককে প্রতিদিন অভিযুক্ত করতেই থাকবে।’

বিকেপি/এনএ

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

আইনি প্রশ্ন ও উত্তর আইন ও আদালত

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর