Logo

আইন ও বিচার

আত্মপরিচয় লুকিয়ে চুক্তি : প্রতিকার কোথায়?

Icon

আইন ও আদালত ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৭

আত্মপরিচয় লুকিয়ে চুক্তি : প্রতিকার কোথায়?

চুক্তি মানেই পারস্পরিক আস্থা ও স্বচ্ছতা। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে এক পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে বা ভিন্ন পরিচয়ে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। অনলাইন লেনদেন, এজেন্সি ব্যবসা, সাব-কন্ট্রাক্টিং কিংবা ভূয়া প্রতিষ্ঠানের নামে চুক্তি- সব ক্ষেত্রেই এই প্রবণতা বাড়ছে।

চুক্তির বৈধতা ও প্রতারণার প্রশ্ন। চুক্তি আইনের মূলনীতি হলো, স্বেচ্ছাসম্মতি (free consent) যদি কোনো পক্ষ পরিচয় গোপন করে বা মিথ্যা পরিচয়ের মাধ্যমে অপর পক্ষকে চুক্তিতে সম্মত হতে প্ররোচিত করে, তবে তা প্রতারণা (ভধঁফ) বা ভ্রান্ত উপস্থাপন ( misrepresentation ) হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের সম্মতি ‘স্বেচ্ছাসম্মতি’ থাকে না। ফলে চুক্তিটি বাতিলযোগ্য (voidable) হয়ে যায় ।

পরিচয় গোপন পন সব সময় অবৈধ নয়। আইনের দৃষ্টিতে সব ক্ষেত্রে আত্মপরিচয় গোপন করা অপরাধ নয়। যেমন- এজেন্ট তার প্রিন্সিপালের পরিচয় প্রকাশ না করেও চুক্তি করতে পারে ( undisclosed principal), যদি চুক্তির প্রকৃতি বা শর্তে ব্যক্তিগত পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ না হয়। তবে যেখানে ব্যক্তিগত যোগ্যতা, বিশ্বাসযোগ্যতা, আর্থিক সক্ষমতা বা বিশেষ পরিচয় চুক্তির মূল ভিত্তি সেখানে পরিচয় গোপন করা আইনত গ্রহণযোগ্য নয় ।

তৃতীয়ত, আইনগত পরিণতি। প্রমাণিত হলে যে পরিচয় গোপন করে চুক্তি করা হয়েছে এবং তাতে অপর পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাহলে চুক্তি বাতিলের অধিকার সৃষ্টি হয়, ক্ষতিপূরণ (compensation/damages) দাবি করা যায়, প্রয়োজনে প্রতারণার অভিযোগে ফৌজদারি দায়ও তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে আর্থিক ক্ষতি সুনামহানি বা ব্যবসায়িক লোকসানের ক্ষেত্রে আদালত ক্ষতিপুরণ নির্ধারণে কঠোর হতে পারে। চতুর্থত, ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের প্রতিকার। ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের জন্য কয়েকটি কার্যকর আইনি পথ রয়েছে-

১) চুক্তি বাতিল : প্রতারণা প্রমাণিত হলে চুক্তি বাতিল করে পূর্বাবস্থায় ফেরার দাবি।

২) ক্ষতিপূরণ দাবি : আর্থিক ক্ষতি বা প্রত্যক্ষ লোকসানের জন্য দেওয়ানি আদালতে মামলা। ৩) নিষেধাজ্ঞা (injunction) : প্রতারণামূলক কার্যক্রম বন্ধে আদালতের আদেশ।

৩) ফৌজদারি ব্যবস্থা : গুরুতর প্রতারণার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশ্রয় নেওয়া।

এই ধরনের ঝুঁকি এড়াতে চুক্তির আগে পরিচয় যাচাই (due diligence), লিখিত চুক্তিতে পূর্ণ পরিচয় ও দায়বদ্ধতা স্পষ্ট করা, এবং প্রয়োজনে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সবশেষে বলা যায়, আত্মপরিচয় লুকিয়ে চুক্তি করা স্বল্পমেয়াদে সুবিধাজনক মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা আইনি ঝুঁকি ও আস্থার সংকট তৈরি করে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইন ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের পাশে রয়েছে- শর্ত একটাই, সচেতনতা ও যথাসময়ে আইনি পদক্ষেপ।

বিকেপি/এনএ

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

আইনি প্রশ্ন ও উত্তর আইন ও আদালত

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর