Logo

আইন ও বিচার

সম্পত্তি জবরদখলকারী উচ্ছেদে আইন কী বলে

Icon

আইন ও আদালত ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৮

সম্পত্তি জবরদখলকারী উচ্ছেদে আইন কী বলে

দেশে ভূমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ একটি দীর্ঘদিনের জটিল সামাজিক ও আইনগত সমস্যা। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ হলো সম্পত্তি জবরদখল- যেখানে প্রকৃত মালিককে জোরপূর্বক বা প্রতারণার মাধ্যমে তার বৈধ সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়। প্রশ্ন হলো, এ ধরনের জবরদখলকারীদের উচ্ছেদে আইন কী বলে এবং বাস্তবে সেই আইন কতটা কার্যকর?

আইনের ভাষায়, কোনো ব্যক্তি যদি বৈধ মালিকের অনুমতি ছাড়া জোরপূর্বক বা প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তির দখল নেয়, তবে তা অবৈধ দখল বা জবরদখল হিসেবে গণ্য হয়। বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৪৪১ (অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ) এবং ধারা ৪৪৭ অনুযায়ী এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ ।

উচ্ছেদের জন্য দেওয়ানি আইনি পদ্ধতি : জবরদখলকারীদের উচ্ছেদের প্রধান পথ হলো দেওয়ানি আদালত। এ ক্ষেত্রে স্বত্ব ঘোষণাসহ দখল পুনরুদ্ধারের মামলা দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ অনুযায়ী দখল ফিরে পাওয়ার মামলা করা যায়। অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মামলা চলাকালীন আদালত জবরদখলকারীকে নির্মাণ বা হস্তান্তর থেকে বিরত রাখতে পারেন। ডিক্রি কার্যকর, রায় পাওয়ার পর আদালতের মাধ্যমে উচ্ছেদ কার্যকর করা হয়, প্রয়োজনে পুলিশ সহায়তায়।

অনেক ক্ষেত্রে জবরদখলের সঙ্গে জাল দলিল, ভয়ভীতি বা সহিংসতা জড়িত থাকে। তখন দণ্ডবিধির ৪২০ (প্রতারণা), ৪৬৪৭১ (জাল দলিল), ১৪৫ ধারা, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কায় দখল সংক্রান্ত আদেশ দিতে পারেন। তবে ফৌজদারি মামলা সাধারণত স্থায়ী দখল সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান নয়; এটি সহায়ক মাত্র। অনেক ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন বা ভ্রাম্যমাণ আদালত সরকারি খাস জমি উদ্ধারে সক্রিয় হলেও ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রশাসন প্রায়ই নিষ্ক্রিয় থাকে। আদালতের আদেশ ছাড়া পুলিশ সরাসরি উচ্ছেদে যেতে পারে না। এটাই আইনের সীমাবদ্ধতা ।

আইনের দুর্বলতা ছাড়াও রয়েছে মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা, প্রভাবশালী দখলদারদের রাজনৈতিক আশ্রয়, জাল দলিল চক্রের দৌরাত্ম্য, রায় কার্যকরে প্রশাসনিক অনীহা, এসব কারণে অনেক ভুক্তভোগী মালিক বছরের পর বছর আদালতের দ্বারে ঘুরেও দখল ফিরে পান না। সম্পত্তি জবরদখল শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির বিষয় নয়; এটি আইনের শাসনের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। একটি রাষ্ট্রে যদি প্রকৃত মালিক তার সম্পত্তির নিরাপত্তা না পান, তবে বিনিয়োগ, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও ন্যায়বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাড. সায়মা ইসলাম গতকাল বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ‘এখন সময় এসেছে ভূমি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের, রায় কার্যকরে প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার, জাল দলিল রোধে ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা জোরদারের। আইন কাগজে-কলমে শক্তিশালী থাকলেই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কার্যকর প্রয়োগ ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা। নচেৎ জবরদখলকারীরাই শক্তিশালী থেকে যাবে, আর প্রকৃত মালিক থাকবে অসহায়।’

বিকেপি/এনএ

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

আইনি প্রশ্ন ও উত্তর আইন ও আদালত

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর