Logo

আইন ও বিচার

হাদি হত্যার আসামি ফয়সাল দুবাইয়ে নয়, ভারতেই আছে : ডিবিপ্রধান

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৫২

হাদি হত্যার আসামি ফয়সাল দুবাইয়ে নয়, ভারতেই আছে : ডিবিপ্রধান

জুলাই বিপ্লবী ও ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’র আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল উপলক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

ডিবিপ্রধান বলেন, সম্প্রতি ফয়সাল করিম মাসুদের দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে সে দাবি করেছে, সে দুবাইয়ে অবস্থান করছে এবং হাদি হত্যাকাণ্ডে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে ভিডিও বার্তাটি সঠিক হলেও অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য সঠিক নয়। তদন্তে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, ফয়সাল বর্তমানে ভারতে রয়েছে।

তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখ হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতের মেঘালয়ে পালিয়ে যায়। ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কি না—এ নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা তদন্তে দূর হয়েছে।

হাদি হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এর মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাঁচজন পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিরা হলেন— হাদিকে গুলি করা ফয়সাল করিম মাসুদ, মোটরসাইকেল চালক আলমগীর শেখ, তাদের পালাতে সহায়তাকারী মানবপাচারকারী ফিলিফ স্নাল, হত্যার নির্দেশদাতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী এবং ফয়সালের বোন জেসমিন।

ডিবিপ্রধান আরও বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী হাদি হত্যার মূল নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী পল্লবীর সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী। পরবর্তীতে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে সম্পূরক চার্জশিট দেওয়া হবে।

শরিফ ওসমান হাদির রাজনৈতিক ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে হাদি ছিলেন রাজনৈতিক অঙ্গনের একজন পরিচিত মুখ। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তিনি ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে তিনি সভা-সমাবেশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোরালো ও সমালোচনামূলক বক্তব্য দিতেন। এতে ছাত্রলীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

ডিবির তথ্যমতে, হাদিকে গুলি করা ফয়সাল করিম মাসুদ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আর ফয়সাল ও আলমগীরকে পালাতে সহায়তাকারী তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী ছিলেন পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর। আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও ভুক্তভোগীর পূর্ববর্তী বক্তব্য বিশ্লেষণ করে তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগে যাওয়ার সময় শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলা চালানো হয়। সে সময় তিনি রিকশায় ছিলেন। পেছন থেকে মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্তের একজন তাকে গুলি করে। গুলিটি তার মাথায় বিদ্ধ হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং অস্ত্রোপচারের পর সেদিন রাতেই এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

এমএইচএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ওসমান হাদি ডিএমপি হত্যা / খুন

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর