হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে নয়
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:১১
বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় সালিশি (আরবিট্রেশন) কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আরেকটি বিয়ে করতে পারবেন না; এমন বিধান বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে রায় দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২০ আগস্ট সংক্ষিপ্ত এ রায় ঘোষণা করেন। ২৪ পৃষ্ঠার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি মামলার আইনজীবী ইশরাত হাসান গত ১২ ডিসেম্বর হাতে পেলেও তা জানাজানি হয় গতকাল রোববার।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইশরাত হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, মূলত ১৯৬১ সালের আইনে ছিল দ্বিতীয় বিয়ে করতে হলে সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি নিতে হবে, বর্তমান স্ত্রীর নয়। সেটা আমরা চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। গত ২০ আগস্ট জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। অর্থাৎ আগের আইনটা বহাল আছে। এটা এমন না যে হাইকোর্টের রায়ে নতুন করে আসছে। এটা নিয়ে অনেকে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন।
তিনি বলেন, মুসলিম পারিবারিক আইনে ১৯৬১ সালের আইনের ৬ ধারায় বলা হয়, যদি একজন পুরুষ বিয়ে করতে চান তাহলে তিনি সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবেন। যদি অনুমতি না নিয়ে বিয়ে করেন তাহলে তাঁর এক বছরের সাজা এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর আমরা মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। রিট আবেদনে বলেছিলাম, সালিশি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও দুই সদস্যের হাতে এমন ক্ষমতা থাকা উচিত নয়। স্ত্রীর অনুমতির বিষয়টা বাধ্যতামূলক করে দেওয়া উচিত। অনুমতি না হলে যেন আরেকটা বিয়ে করতে না পারে, সেটা আমরা চেয়েছি।
এখন এই আইন বাদ দিয়ে নতুন করে হাইকোর্ট নীতিমালা তৈরি করে দিক। কয়টা বিয়ে করতে পারবে, সে ধরনের সীমা বা একজনের আদৌ বিয়ে করার ব্যাপারে অর্থনৈতিক, শারীরিক, মানসিক সক্ষমতা আছে কিনা সেগুলো নির্ধারণ হোক।
তিনি বলেন, রায়ের বিরুদ্ধে আমরা আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা মনে করি এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে উচ্চ আদালত থেকে নিষ্পত্তি হয়ে আসা উচিত।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে রিটের পর ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি পারিবারিক জীবন রক্ষার বৃহৎ স্বার্থে বহুবিবাহ আইনের বিষয়ে নীতিমালা কেন করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে স্ত্রীদের মধ্যে সমঅধিকার নিশ্চিত করা ছাড়া আইন অনুসারে বহু বিবাহের অনুমতির প্রক্রিয়া কেন অবৈধ হবে না তাও জানতে চান আদালত। ওই রুলের শুনানি শেষে গত ২০ আগস্ট হাইকোর্ট রুল খারিজ করে দেন। ফলে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর বহুবিবাহ-সংক্রান্ত ধারা বহাল থাকল।
আইএইচ/

