Logo

আইন ও বিচার

চানখারপুলে ৬ হত্যা মামলার রায় আজ

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৬

চানখারপুলে ৬ হত্যা মামলার রায় আজ

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখারপুলে ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে ছয় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ রায় ঘোষণা করা হবে। পাঁচ মাসের বিচার প্রক্রিয়া শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ পুলিশের শীর্ষ আট কর্মকর্তার ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। এটি জুলাই অভ্যুত্থানকালে পুলিশের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হত্যাকাণ্ডের প্রথম মামলার রায়।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আজ রায়ের পুরো কার্যক্রম ঘোষণা করবেন। রায় ঘোষণা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি)।

মামলার প্রধান চার আসামি পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন— ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।

এ ছাড়া গ্রেপ্তার চার আসামি হলেন— শাহবাগ থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন, কনস্টেবল ইমাজ হোসেন ইমন ও কনস্টেবল নাসিরুল ইসলাম।

গত বছরের ১৪ জুলাই এ মামলার বিচার শুরু হয়। পরে ১১ আগস্ট থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়। বিচার চলাকালে হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষ বিবরণ, ভিডিও ফুটেজ, ফোনালাপ, অডিও রেকর্ডসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ আলামত ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়।

প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের দিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গুলি চালায় পুলিশ। এতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে।

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা দেয়। নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ২৫ মে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে সেদিনই ট্রাইব্যুনাল হাবিবুর রহমানসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, চানখারপুল এলাকায় নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর আসামিরা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করেন। প্রতিবেদনের পরিসর ছিল ৯০ পৃষ্ঠা। এতে ৭৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, ১৯টি ভিডিও, ২টি অডিও, পত্রিকার ১১টি প্রতিবেদন, বই ও রিপোর্টসহ মোট ১১টি নথি এবং ৬টি ডেথ সার্টিফিকেট সংযুক্ত করা হয়।

প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সে সময় সাংবাদিকদের জানান, তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ অডিও কল পাওয়া গেছে, যেখানে হাবিবুর রহমান পুলিশ কমান্ড সেন্টার থেকে ওয়ারল্যাসের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে চায়নিজ রাইফেল দিয়ে সরাসরি গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশের পরই মাঠপর্যায়ে প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়।

২০২৫ সালের ১৪ জুলাই আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ মোট ২৬ জন সাক্ষ্য দেন। আসামিপক্ষে সাক্ষ্য দেন তিনজন।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশন আট আসামির সবার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে। প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা চায়নিজ রাইফেল দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। যারা ওই নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের হুমকি ও গালাগাল করা হয়। প্রসিকিউশন অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের ১৭ নভেম্বর জুলাই হত্যাকাণ্ডের প্রথম রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক মহাপুলিশ পরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল।

এমএইচএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

আইন ও আদালত আদালত জুলাই অভ্যুত্থান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর