চানখারপুলে ৬ হত্যা মামলার রায় হচ্ছে না আজ
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর চানখারপুলে ছয়জন নিহতের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ ঘোষণা হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণার জন্য নতুন দিন ধার্য করেছে আগামী ২৬ জানুয়ারি।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণার নতুন তারিখ ঠিক করেন। অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মামলার প্রধান চার আসামি এখনও পলাতক। তারা হলেন— ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।
গ্রেপ্তার চার আসামি হলেন— শাহবাগ থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন, কনস্টেবল ইমাজ হোসেন ইমন ও কনস্টেবল নাসিরুল ইসলাম।
মামলার বিচার শুরু হয় গত বছরের ১৪ জুলাই। ১১ আগস্ট থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়। বিচার চলাকালে হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষ বিবরণ, ভিডিও ফুটেজ, ফোনালাপ ও অডিও রেকর্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালায়। এতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল প্রসিকিউশনে জমা দেওয়া হয়। পরে ২৫ মে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, তদন্তে পাওয়া অডিও রেকর্ডে দেখা গেছে, সাবেক পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে সরাসরি চায়নিজ রাইফেল দিয়ে গুলি চালানোর নির্দেশ দেন।
২০২৫ সালের ১৪ জুলাই ট্রাইব্যুনাল আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। প্রসিকিউশন সবার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে।
এর আগে, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল জুলাই হত্যাকাণ্ডের প্রথম রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং সাবেক মহাপুলিশ পরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন।
এমএইচএস

