Logo

আইন ও বিচার

গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে বিমানের এমডি ও স্ত্রীসহ ৪ জন কারাগারে

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:২৯

গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে বিমানের এমডি ও স্ত্রীসহ ৪ জন কারাগারে

আদালত প্রাঙ্গণে বিমানের এমডি সাফিকুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত

১১ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বিথীসহ ৪ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদের আদালত এ আদেশ দেন। কারাগারে পাঠানো অন্য দুই আসামি হলেন— সাফিকুর রহমানের বাসার দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন এবং মোছা. সুফিয়া বেগম।

সোমবার ভোরে উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক রোবেল মিয়া। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে অসংলগ্ন ও ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। আসামিরা জামিন পেলে তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে বলে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন শুনানিতে দাবি করেন, সাফিকুর রহমান একজন সরকারি কর্মকর্তা এবং তিনি বাসায় থাকেন না, তাই এসব ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাহমিনা আক্তার এর তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, ‘পেটের দায়ে ১১ বছরের শিশুটিকে কাজে দেওয়া হয়েছিল। ওই বাসায় ঢোকার পর থেকে তাকে প্রতিনিয়ত অত্যাচারে জর্জরিত করা হয়েছে, যা অত্যন্ত ভয়ংকর।’

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত বছরের জুন মাসে মোহনা (ছদ্মনাম) নামের ওই শিশুটিকে সাফিকুর রহমানের বাসায় কাজে দেওয়া হয়। কাজে নেওয়ার সময় এমডি ও তার স্ত্রী শিশুটির বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সর্বশেষ গত ২ নভেম্বর শিশুটির বাবা সুস্থ অবস্থায় মেয়েকে দেখে আসেন। কিন্তু এরপর থেকে পরিবারকে আর মেয়ের সাথে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

গত ৩১ জানুয়ারি শিশুটির বাবা একটি ফোন কল পান এবং তাকে জানানো হয় তার মেয়ে অসুস্থ, তাকে নিয়ে যেতে হবে। সেদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে মেয়েকে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেন সাফিকুর রহমানের স্ত্রী বিথী। তখন দেখা যায়, শিশুটির দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম এবং সে ঠিকমতো কথাও বলতে পারছে না।

আহত শিশুটি বর্তমানে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মেয়েটি তার বাবাকে জানায়, গত ২ নভেম্বর বাবা দেখা করে যাওয়ার পর থেকেই অকারণে সাফিকুর রহমান এবং বিথীসহ অন্য আসামিরা তাকে মারধর করতেন। এমনকি লোহার খুন্তি আগুনে গরম করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। এই লোমহর্ষক জানার পর ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

এমএইচএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

গ্রেপ্তার

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর