Logo

আইন ও বিচার

হাসিনার মৃত্যুদণ্ড বাতিল চেয়ে চিঠি পাঠানো আদালত অবমাননাকর

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:১৪

হাসিনার মৃত্যুদণ্ড বাতিল চেয়ে চিঠি পাঠানো আদালত অবমাননাকর

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম (ফাইল ছবি)

জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো চিঠি আদালত অবমাননাকর বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রমকে বিতর্কিত করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির পক্ষে লন্ডন থেকে ল ফার্ম দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিঠি পাঠানোর আইনে কোনো সুযোগ নেই। 

চিফ প্রসিকিউটর জানান, ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে আসামিকে সশরীরে হাজির হয়ে আপিল করতে হবে। আসামি অনুপস্থিত থেকে কোনো ল ফার্মের মাধ্যমে চিঠি পাঠানোর সুযোগ নেই। 

শেখ হাসিনার মামলার ইস্যুতে লন্ডনভিত্তিক আইন সংস্থা কিংসলে ন্যাপলির কোনো চিঠি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার এবং চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে জমা পড়েনি। তবে তারা গণমাধ্যম থেকে চিঠি পাঠানোর সংবাদ জেনেছেন। 

জান যায়, ৩০ মার্চ ই-মেইলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিঠি পাঠান তার পক্ষে যুক্তরাজ্যের আইনজীবী কিংসলি ন্যাপলি।

চিঠিতে যা বলা হয়েছে: শেখ হাসিনার পক্ষে ট্রাইব্যুনাল বরাবর লন্ডনের আইনি প্রতিষ্ঠান কিংসলি ন্যাপলির পাঠানো এই চিঠি দশ পৃষ্ঠার। চিঠিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানো ওই চিঠিতে শেখ হাসিনার বিচার প্রক্রিয়াকে ‘অবৈধ’ এবং ‘আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি’ বলে দাবি করা হয়েছে। তারা বলছে, আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার করা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দেওয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পরিপন্থি।

চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মাধ্যমে ন্যায্য বিচারের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। এছাড়া প্রসিকিউশন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বিশেষ করে সাবেক প্রধান প্রসিকিউটরের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

এর পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলিকে আইসিটির আওতায় নেওয়ার বিষয়কে আইনের ‘ভূতাপেক্ষ প্রয়োগ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এসব অভিযোগ সাধারণ ফৌজদারি আদালতেই বিচার হওয়া উচিত ছিল বলেও মনে করে ল’ ফার্মটি।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে তা ‘সামারি এক্সিকিউশন’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে গণ্য হতে পারে।

বিচার বাতিল ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের পাশাপাশি আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে চিঠিতে। ট্রাইবুনালকে ১৪ দিনের মধ্যে এই চিঠির জবাব দেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছে ব্রিটিশ ল’ ফার্মটি।

২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে গত বছরের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচার চলার সময় তিনি অনুপস্থিত থাকায় তার পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিযুক্ত করেন ট্রাইব্যুনাল। আইন অনুযায়ী, এই রায় পরিবর্তন বা বহাল রাখার ক্ষমতা রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার পক্ষে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ল ফার্ম কিংসলি ন্যাপলির পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে যেভাবে বিচার করা হয়েছে এবং মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তাতে আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচারের মৌলিক মানদণ্ড লঙ্ঘন হয়েছে। শেখ হাসিনার বিচারপ্রক্রিয়াকে অন্যায্য ও অবৈধ বলা হয়েছে চিঠিতে। 

চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো, তা জানিয়ে ১৪ দিনের মধ্যে জবাব দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন কিংসলি নেপলি।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন