Logo

আইন ও বিচার

২৬ বছর পর রায়:

জনতা ব্যাংকের ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলায় ৫ সাবেক কর্মকর্তার কারাদণ্ড

Icon

আইন ও আদালত ডেস্ক :

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ১৮:০৩

জনতা ব্যাংকের ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলায় ৫ সাবেক কর্মকর্তার কারাদণ্ড

সংগৃহীত

চট্টগ্রামে প্রায় ২৬ বছর আগের জনতা ব্যাংকের ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা আত্মসাতের মামলায় ব্যাংকের পাঁচ সাবেক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ধারায় আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ৪৬ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

রোববার (১০ মে) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় পাঁচ আসামিই আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— জনতা ব্যাংকের শেখ মুজিব রোড করপোরেট শাখার সাবেক কর্মকর্তা মো. আবু তৈয়ব, বাবুল চন্দ্র মজুমদার, রনেন্দ্র বিকাশ সাহা, মোসলেম উদ্দিন এবং ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সাবেক এসপিও (আইডি রিকন) মো. সাঈদ হোসেন।

তবে একই শাখার সাবেক কর্মকর্তা নুরুল হুদাকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আরেক আসামি আবু বকর সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে জারি হওয়া রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।

দুদক চট্টগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. এনামুল ইসলাম জানান, মামলায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় পাঁচ বছর, ৪২০ ধারায় দুই বছর এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় এক বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে সব সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় আসামিদের মোট আট বছর কারাভোগ করতে হবে না; সর্বোচ্চ সাজাটিই কার্যকর হবে।

আদালত প্রত্যেক আসামিকে ৪৬ লাখ টাকা করে জরিমানাও করেছেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

যেভাবে আত্মসাৎ করা হয় টাকা

মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০০০ সালের ২৯ মার্চ পর্যন্ত সময়ে জনতা ব্যাংকের শেখ মুজিব রোড করপোরেট শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা ও গ্রাহক যোগসাজশে ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাব থেকে অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তর করেন। পরে সেই অর্থ বিভিন্ন চলতি ও এসটিডি হিসাবের মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়।

ঘটনার তদন্তে বিশেষ পরিদর্শন দল ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পায়। এরপর ২০০০ সালের ৬ এপ্রিল জনতা ব্যাংকের তৎকালীন ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. আবুল কাসেম মিয়া নগরের ডবলমুরিং থানায় মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ১৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। পরে ২০১৩ সালের ৬ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

বাংলাদেশেরখবর/আরকে

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন