প্রতারণা মামলায় বিদিশার দুই বছরের কারাদণ্ড, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
আইন ও আদালত ডেস্ক :
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১৯:১০
সংগৃহীত
রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা প্রতারণার মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ–এর সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক–কে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন হিরণ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মামলার বিচার চলাকালে আসামি পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। তবে রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিদিশা সাংবাদিকদের বলেন, মামলার বিষয়ে তিনি অবগত নন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়ের করা এ মামলার বাদী মোশাররফ হোসেন মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। ২০০১ সালে বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে তিনি বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য উভয়ের মধ্যে ৮০ লাখ টাকায় চুক্তি সম্পাদিত হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা কার্যালয়ে ডেকে তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার প্রদান করতে বলেন। পরবর্তীতে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করা হয় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ সাপেক্ষে ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে বিদিশা অর্থ ফেরতের আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সেটি ডিজঅনার হয়।
বাদীর দাবি, পরবর্তীতে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয় এবং টাকা কিংবা ফ্ল্যাট—কোনোটিই বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝে নিতে চাইলে সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

