Logo

আইন ও বিচার

‘জঙ্গি’ অপবাদে কেটেছে এক দশক, অবশেষে নির্দোষ প্রমাণিত ৩ শিক্ষার্থী

Icon

আইন ও আদালত ডেস্ক :

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬, ১৭:৪৭

‘জঙ্গি’ অপবাদে কেটেছে এক দশক, অবশেষে নির্দোষ প্রমাণিত ৩ শিক্ষার্থী

সংগৃহীত

এক অভিযানের পর রাতারাতি ‘জঙ্গি’ তকমা গায়ে জড়িয়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছিলেন তিন কলেজছাত্রী। এরপর দীর্ঘ সাড়ে নয় বছর কেটেছে আদালতের বারান্দা, জামিনের লড়াই এবং সামাজিক কলঙ্কের বোঝা বহন করে। অবশেষে আদালতের রায়ে মুক্তি মিলেছে তাদের। অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ না পাওয়ায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের তিন শিক্ষার্থীকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

গত ২৪ মে জেলা ও দায়রা জজ আদালত এ রায় দেন। শনিবার (৩১ মে) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন।

তিনি বলেন, এই শিক্ষার্থীদের জঙ্গি তকমা দিয়ে রাষ্ট্র বা তদন্তসংশ্লিষ্টরা কী অর্জন করেছে, সেটি বড় প্রশ্ন। তাদের কাছ থেকে কোনো অবৈধ বা নিষিদ্ধ বস্তু উদ্ধার করা হয়নি। কেবল কোরআন, হাদিস এবং ডা. জাকির নায়েকের কিছু বই পাওয়া গিয়েছিল। অথচ সেই অভিযোগের কারণে একজন শিক্ষার্থী মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েও চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, আদালতের রায়ের পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার চাইলে রাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে আইনি সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত। একই সঙ্গে এ মামলার পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনারও দাবি জানান তিনি।

যেভাবে শুরু হয়েছিল আলোচিত মামলা

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৭ জুলাই রাতে কুমিল্লা শহরের নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ, র‌্যাব, সিআইডি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। অভিযানের সময় হলের ২০২ নম্বর কক্ষে থাকা তিন শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তাদের কক্ষ তল্লাশি চালানো হয়।

তল্লাশিতে কয়েকটি ধর্মীয় ও ইসলামী বিষয়ক বই জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ছিল ডা. জাকির নায়েকের লেকচার সমগ্র, ‘আদর্শ পরিবার পরিবেশ’, ‘পরকালের প্রস্তুতি’ এবং ‘ইসলামী আন্দোলনের পথ ও পাথেয়’ শীর্ষক বই।

পরবর্তীতে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই তিন শিক্ষার্থীকে জঙ্গিবাদের অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় নেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

আলোচিত ঘটনার দীর্ঘ বিচারিক পথচলা

ঘটনাটি সে সময় দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিছুদিন কারাভোগের পর তারা উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন।

এরপর মামলাটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং উচ্চ আদালতসহ বিভিন্ন বিচারিক ধাপ অতিক্রম করে। দীর্ঘ শুনানি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার একপর্যায়ে আদালত অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ না পাওয়ায় গত ২৪ মে তিন শিক্ষার্থীকে খালাসের আদেশ দেন।

স্বস্তি ও সন্তুষ্টি পরিবারের

রায়ের পর শিক্ষার্থীরা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, প্রায় এক দশক ধরে চলা অনিশ্চয়তা, মানসিক চাপ ও সামাজিক সংকটের একটি অধ্যায়ের অবসান হয়েছে। তারা আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

মামলার শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের পক্ষে আইনি সহায়তা প্রদান করেন অ্যাডভোকেট শহীদ উল্লাহ, অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন এবং অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম মনির।

বাংলাদেশেরখবর/আরকে

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন