রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে আট বছরের শিশু রামিসাকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে আগামীকাল মঙ্গলবার (২ জুন)। এদিন রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রেখেছেন আদালত।
সোমবার (১ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ আদেশ দেন।
এর আগে, এদিন এই মামলার অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি হয়। শুনানি নিয়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং আরেক আসামি ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করতে নিয়োগপ্রাপ্ত বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (স্পেশাল পিপি) মোহাম্মদ আজিজুর রহমান দুলু আদালত থেকে বের হওয়ার পর এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
এদিন সকাল পৌনে ৮টার দিকে প্রিজনভ্যানে আসামিদের আদালতে আনা হয়। এরপর সকাল পৌনে ১১টার দিকে সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। আর বেলা ১১টার পরপর আদালতে হাজির করা হয় আরেক আসামি স্বপ্নাকে।
আদালতকে মামলার অভিযোগপত্র থেকে পড়ে শোনান আইনজীবী মোহাম্মদ আজিজুর রহমান দুলু। এতে বলা হয়, সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যায় সহায়তা করার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এরপর আসামিপক্ষকে রাষ্ট্রীয় খরচে মামলা পরিচালনার জন্য নিয়োজিত আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) মুসা কালিমুল্যাহর বক্তব্য শুনতে চান আদালত। শুনানিতে স্টেট ডিফেন্স বলেন, যেহেতু এই মামলার কোনো চাক্ষুস সাক্ষী নেই, তাই আসামিরা এই মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকীও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে বিচারক দুই আসামিকে একে একে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শোনান এবং তারা দোষ স্বীকার করেন কিনা- তা জানতে চান। জবাবে দুই আসামিই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
এদিকে, এদিন প্রধান আসামিকে আদালত কক্ষে হাজির করতেই উপস্থিতির অনেকেই তার ছবি ও ভিডিও করতে থাকেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পিপি তাদের সতর্ক করে বলেন, আদালত কক্ষে ছবি তুলবেন না। কেউ সামাজিক মাধ্যমে এসব ছবি প্রকাশ করলে তার বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে একটু পর আরেক আসমি স্বপ্নাকে আদালত কক্ষে হাজির করা মাত্র আবার উপস্থিতির অনেককে ছবি ও ভিডিও করতে দেখা যায়।
গত ১৯ মে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর পল্লবীর একটি ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনার পর মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা ওই ফ্ল্যাটের শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। তবে ওই বাসা থেকে তার স্ত্রীকে তখনই আটক করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার পরদিন গত ২০ মে শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। ওই দিন বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দেন প্রধান আসামি সোহেল রানা। জবানবন্দিতে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

