Logo

আইন ও বিচার

শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত, আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন বুধবার

Icon

আইন ও আদালত ডেস্ক :

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ১৮:৪৮

শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত, আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন বুধবার

সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে গলাকেটে হত্যার মামলায় দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে বিচারিক প্রক্রিয়া। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে মামলার ১৮ জন চার্জশিটভুক্ত সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্বের সমাপ্তি ঘটল। আগামীকাল বুধবার (৩ জুন) ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে মামলার বাদী ও নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দিসহ মোট ১৬ জন সাক্ষীর মধ্য দিয়ে আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

পর্যায়ক্রমে আদালতে সাক্ষ্য ও জবানবন্দি দেন: ভিকটিমের মা পারভীন আক্তার ও বড় বোন রাইসা আক্তার।  শিশুটির ফুপু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর রহমান লিটন ও ফুপা মনিরুজ্জামান শাহীন। ভবনের বাসিন্দা ও প্রতিবেশী মনির হোসেন, শেখ আবু সামা এবং জাকিরুল ইসলাম রাজু। কনস্টেবল রোমা আক্তার ও কনস্টেবল শরীফ মিয়া। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন এবং ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. নাসাদ জাবিন। আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডকারী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ। এসআই রাশেদুল ইসলাম এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান।

সাক্ষ্যগ্রহণকালে রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমউল্লাহ সাক্ষীদের জেরা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, সকাল পৌনে ৯টায় মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে নিয়ে আসা হয়। প্রথমে তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয় এবং পরবর্তীতে সাক্ষ্যগ্রহণের শুরুতে এজলাসে হাজির করা হয়।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (১ জুন) আদালত এই দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন। একই দিন বিকেলে মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছিল।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের রুমে ডেকে নেয়। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলাকেটে হত্যা করা হয়।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির ঘরের দরজার সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তিনি। ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বাড়ির অন্যান্যদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন তারা। সেখানে শোবার ঘরের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং ঘরের ভেতরের একটি বড় বালতিতে তার কাটা মাথা উদ্ধার করা হয়।

খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চার্জশিট দাখিল করলে আদালত তা আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনালে পাঠান।

বাংলাদেশেরখবর/আরকে

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন