শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার পেপারবুক প্রস্তুত, শুনানি শিগগিরই
আইন ও আদালত ডেস্ক :
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১৭:২০
সংগৃহীত
মাগুরার বহুল আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় পেপারবুক প্রস্তুত হয়ে হাইকোর্টে পৌঁছেছে। ফলে মামলাটির শুনানি শিগগিরই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) সরকারি ছাপাখানায় মুদ্রিত পেপারবুক হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় জমা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আইন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমানে মামলার আনুষঙ্গিক প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রধান বিচারপতি শুনানির জন্য একটি বিশেষ বেঞ্চ নির্ধারণ করবেন।
এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করবেন। ওই বেঞ্চেই শিশু আছিয়া ও রামিসাসহ আলোচিত ধর্ষণ ও হত্যা মামলাগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, মাগুরার চাঞ্চল্যকর এ মামলায় গত বছরের ১৭ মে রায় দেন মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
রায়ের পর গত বছরের ২১ মে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য বিচারিক আদালতের রায় ও মামলার নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরে তা ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে হাইকোর্টের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এ কারণে বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাইকোর্টে পর্যালোচনার জন্য আসে। একই সঙ্গে দণ্ডিত ব্যক্তি আপিল, জেল আপিল কিংবা অন্যান্য আবেদন করার সুযোগ পান।
মামলার ধারাবাহিকতায় হিটু শেখ গত বছরের ২৫ জুন হাইকোর্টে আপিল করেন। আপিলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুনানি শেষে ১ জুলাই হাইকোর্ট তার আপিল গ্রহণ করেন এবং বিচারিক আদালতের আরোপিত অর্থদণ্ড স্থগিত করেন।
সাধারণত ডেথ রেফারেন্স, জেল আপিল, নিয়মিত আপিল এবং অন্যান্য আবেদন একসঙ্গে শুনানি করা হয়। এসব শুনানির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পেপারবুক তৈরি করা হয়, যেখানে মামলার এজাহার, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্য-প্রমাণ, সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং বিচারিক আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় সংযুক্ত থাকে।
পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ায় এখন আলোচিত এ মামলার বিচারিক পর্যালোচনার পরবর্তী ধাপ শুরু হওয়ার অপেক্ষা। আইন সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, বিশেষ বেঞ্চ গঠনের পর দ্রুত শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

