আয়নাঘর পরিদর্শনে এবার আসামিপক্ষের আইনজীবীদেরও অনুমতি
আইন ও আদালত ডেস্ক :
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ১৮:২৪
র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) এবং ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি), যা 'আয়নাঘর' নামে পরিচিত, পরিদর্শনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের সঙ্গে এবার আসামিপক্ষের আইনজীবীদেরও অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আসামিপক্ষের মৌখিক আবেদনের পর এ অনুমতি দেন।
এদিন জেআইসিতে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শুনানিকালে আসামিপক্ষের এক আইনজীবী মৌখিকভাবে ট্রাইব্যুনালের কাছে এ আবেদন জানান। এতে প্রসিকিউশন সম্মতি দিলে ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি মঞ্জুর করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু সাংবাদিকদের বলেন, ডিজিএফআইসহ বিভিন্ন বন্দিশালা পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের সঙ্গে ডিফেন্স আইনজীবীদেরও অংশ নেওয়ার বিষয়ে প্রধান প্রসিকিউটর ইতোমধ্যে সম্মতি দিয়েছেন। এর ধারাবাহিকতায় ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করা হলে আদালত অনুমতি দেন।
তিনি বলেন, এতে বিচারপ্রক্রিয়ায় উভয় পক্ষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে তারা মনে করেন। পাশাপাশি ট্রাইব্যুনাল চাইলে পরিদর্শনের সময় এক বা একাধিক সাংবাদিককে সঙ্গে নিলে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা আরও জোরদার হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, জেআইসিতে গুম-নির্যাতনের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের ধারাবাহিকতায় ষষ্ঠ সাক্ষীর জেরা হওয়ার কথা থাকলেও সাক্ষী অসুস্থ থাকায় তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। এ কারণে প্রসিকিউশন সময়ের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রসিকিউশনের আবেদনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল টিএফআই, জেআইসি এবং ডিবির কথিত গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত দেন।
শুনানিতে প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিরোধী মতাবলম্বীদের তুলে নিয়ে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত বিভিন্ন বন্দিশালায় আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো পরিদর্শন প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের শাসনামলে টিএফআই ও জেআইসিতে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক দুটি মামলার বিচার বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে। এসব মামলায় আসামিদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার নাম রয়েছে।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

