গার্মেন্টস কর্মী হত্যা মামলায় প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড
আইন ও আদালত ডেস্ক :
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৫৮
প্রায় ছয় বছর আগে সাভারের আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় এক গার্মেন্টস কর্মীকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় তার প্রেমিক শরিফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রোববার (২ আগস্ট) ঢাকার ৮ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মুনির হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজুল ইসলাম সজীব রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, রায় ঘোষণার আগে শরিফুল ইসলামকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, নিহত শাহিনা খাতুন ও দণ্ডপ্রাপ্ত শরিফুল ইসলাম আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার একটি অ্যাপারেলস কারখানায় অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মস্থলে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তারা ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। এ সময় শরিফুল বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক ছিলেন।
একপর্যায়ে শাহিনা শরিফুলকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। তবে শরিফুল তার প্রথম স্ত্রীর কাছে ফিরে যেতে চাইলে এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
২০২০ সালের ১৯ মার্চ দুপুরে এ বিরোধের জেরে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে শরিফুল শাহিনাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ঘরের ভেতর রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যান।
ঘটনার তিন দিন পর দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে শাহিনা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় ২২ মার্চ নিহতের ভাই মো. রাহিন আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রায় পাঁচ মাস পর পুলিশ শরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৩০ অক্টোবর আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ফজল আলী শরিফুল ইসলামকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২২ সালের ৭ মার্চ অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু হয়। বিচারিক কার্যক্রমে ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের এ রায় দেন।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

