ইউসিবির ২৫ কোটি টাকা ঋণ ও পাচারের মামলা
জাবেদ-রুখমিলার বিরুদ্ধে আরও দুজনের সাক্ষ্য
আইন ও আদালত ডেস্ক :
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৪৯
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) থেকে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা বিদেশে পাচারের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্ত্রী রুখমিলা জামানসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে আরও দুজন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ ও আসামিপক্ষের জেরা শেষ হয়। চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে এ সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি মোকাররম হোসাইন জানান, এ নিয়ে মামলাটিতে এখন পর্যন্ত ৪৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। গত ৪ এপ্রিল থেকে মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২১ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ
দুদকের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের প্রটোকল কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে মালিক সাজিয়ে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়। পরে ওই প্রতিষ্ঠানের নামে জাল নথিপত্র তৈরি করে ইউসিবির পোর্ট শাখা থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে দুদক।
তদন্তে সংস্থাটি আরও দাবি করেছে, ঋণ অনুমোদনের আগে ব্যাংকের ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। এসব আপত্তি থাকার পরও তৎকালীন চেয়ারম্যান রুখমিলা জামানের প্রভাব এবং সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সরাসরি হস্তক্ষেপে ঋণটি অনুমোদন করা হয় বলে অভিযোগ দুদকের।
তদন্তে সাইফুজ্জামান চৌধুরীকে ইউসিবির ‘ডি-ফ্যাক্টো’ চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করেছে দুদক। সংস্থাটির ভাষ্য, ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে তার স্ত্রী রুখমিলা জামান থাকলেও সাইফুজ্জামান চৌধুরী কার্যত ব্যাংকটির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিলেন।
ঋণের টাকা অন্য প্রতিষ্ঠানের দেনা পরিশোধে
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঋণ হিসেবে নেওয়া ২৫ কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ১৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা সাইফুজ্জামান চৌধুরীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আরামিট সিমেন্ট ও আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়ামের পুরোনো দেনা পরিশোধে ব্যবহার করা হয়।
অর্থাৎ ‘ভিশন ট্রেডিং’-এর নামে নেওয়া ঋণের বড় একটি অংশ অন্য প্রতিষ্ঠানের দায় পরিশোধে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে।
বাকি প্রায় ৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা নগদে উত্তোলন করা হয়। পরে ওই অর্থ হুন্ডি ও হাওলা পদ্ধতিতে দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক।
২৩ বস্তা নথি উদ্ধারের দাবি
মামলাটির তদন্তের সময় রুখমিলা জামানের গাড়িচালকের এক প্রতিবেশীর বাসা থেকে ২৩ বস্তা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও বিভিন্ন আলামত উদ্ধারের দাবি করেছে দুদক। সংস্থাটির অভিযোগপত্রে এসব নথি ও আলামতকে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের দাবি, উদ্ধার করা নথিপত্র যাচাই করে বিদেশে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব নথিতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ১ হাজার ১০০টির বেশি ফ্ল্যাট ও রিয়েল এস্টেট সম্পদ কেনার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
৩৬ জন আসামি
এ মামলায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুখমিলা জামানসহ মোট ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্তের পর অভিযোগপত্র দেয় দুদক।
এর আগে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর আদালত সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও রুখমিলা জামানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন। তবে দুদকের তথ্যমতে, আদালতের ওই নিষেধাজ্ঞা জারির আগেই তারা আইন ফাঁকি দিয়ে বিদেশে চলে যান।
দুদকের পিপি মোকাররম হোসাইন বলেন, গত ৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া সাক্ষ্য গ্রহণে এ পর্যন্ত ৪৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। বুধবার আরও দুজনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা শেষ হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ২১ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

