Logo

আইন ও বিচার

ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:৩৭

ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ পাওয়া যায় বলে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানিয়েছেন। 

পুলিশ জানায়, ফ্ল্যাটে এমপি নজরুল ইসলামসহ সস্ত্রীক বসবাস করেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষের জানালা দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে মরিয়মের লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। আলামত সংগ্রহের জন্য পরবর্তীতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিটকে ডাকা হয়। তারা আসার আগ পর্যন্ত ওই কক্ষে প্রবেশ করেনি থানা পুলিশ।

এমপি নজরুল ও প্রথম স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে: সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা খানমকেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শেরেবাংলা নগর থানায় নেওয়া হয়েছে।

ইবনে মিজান রাত ১০টার দিকে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই ও ডিবির দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, কক্ষটি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্যের। সিআইডি ঘটনাস্থলে ক্রাইম সিনের কাজ করেছে। থানা-পুলিশ মরদেহের সুরতহাল করেছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। 

হত্যা নাকি আত্মহত্যা, প্রশ্ন উঠছে: মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুতে নানা প্রশ্ন সামনে আসছে। তার কীভাবে মৃত্যু হলো, ঘটনার আগে ফ্ল্যাটে কী ঘটেছিল এবং ওই সময় সেখানে কে বা কারা ছিলেন-এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে মরিয়ম খাতুনের নিকট আত্মীয়দের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, এটি আসলেই আত্মহত্যা, নাকি হত্যা?

দ্বিতীয় স্ত্রীর মামার করা হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতে জামিননামা দাখিল করেছেন নজরুল: গাজী নজরুল ইসলাম দ্বিতীয় স্ত্রীর মামার করা হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর ঢাকার আদালতে জামিননামা দাখিল করেছেন। রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত এসে তিনি এই জামিননামা দাখিল করেন।

ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গত ১০ আগস্ট এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে ৮ সপ্তাহের জামিন পান গাজী নজরুল ইসলাম। রোববার সেই জামিননামা দাখিল করলেন।

এই মামলার বাদী ওবায়দুর রহমান গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক। তিনি নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের মামা। গত ২১ জুলাই গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪) এবং তার চার সহযোগীর বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় এই মামলা করেছিলেন তিনি। মামলায় অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করেছিলেন। মামলার অপর আসামিরা হলেন- আমিনুর রহমান (৫৫), মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)।

গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত জুলাইয়ে তার ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে এক তরুণীর সঙ্গে তাকে দেখা যায়। পরে গাজী নজরুল ইসলাম জানান, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন।

এরপর ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন