ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল পাঁচ দিনের রিমান্ডে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:২৭
ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসানকে পাঁচ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তারেকুর রহমান খবরের সত্যতা নিশ্চিৎ করেছেন।
এর আগে রাকিবুল হাসানকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার পরিদর্শক এ বি এম আব্দুল্লাহ খালেদ সাকিব তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রাত পৌনে ৯টার দিকে রাকিবুলকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তার মাথায় হেলমেট, বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং হাতকড়া পরানো ছিল। কাঠগড়ায় নেওয়ার পর হাতকড়া বাদে সবকিছু খুলে ফেলা হয়।
শুনানি তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামির পক্ষে অ্যাডভোকেট মোরশেদ হোসেন শাহীন রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করে বলেন, মানুষ দেখেছে সাতদিন পর্যন্ত তাকে ডিবি কার্যালয়ে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সংবিধানে বলা আছে, গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে আদালতে হাজির করতে হবে বা আদালতকে অবহিত করতে হবে। কিন্তু সেটি করা হয়নি। কোন আইনে তাকে সাতদিন আটকে রাখা হল?
তিনি বলেন, আওয়ামী কার্যক্রমে নিষিদ্ধ দল। তিনি কি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত, অর্থের যোগানদাতা যে এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হবে? তিনি সরকারি চাকরিজীবী, নিষ্ঠার সঙ্গে চাকরি করেছেন। আস্থা বিশ্বাসের সরঙ্গ চাকরি করেছেন। কখনো তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করেনি। যে কথার জন্য তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা অতিরঞ্জিতভাবে বলা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার বা রিমান্ডে নেওয়ার মতো তথ্য উপাত্ত নেই।
অ্যাডভোকেট মোরশেদ হোসেন শাহীন বলেন, যারা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে তাদের যদি এভাবে গ্রেপ্তার করা হয় তাহলে জনগণের নিরাপত্তা দেবে কে? মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রনোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যায় করলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে এরপর বিভাগীয় মামলা হবে মন্তব্য করে এ আইনজীবী বলেন, তা না করে সরাসরি ফৌজদারি মামলা দেওয়া হয়েছে এবং রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। রিমান্ডের কোনো যৌক্তিকতা নেই। রিমান্ড বাতিল করে তার জামিন প্রার্থনা করছি।
অন্যদিকে রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে এ আসামি মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তিনিসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট, সরকার পতনের ষড়যন্ত্র এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, সরকারের প্রশাসনিক উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বাহিনী সম্পর্কে অবজ্ঞা, বিদ্বেষ, ঘৃণা পোষণ করেছেন। তারা উস্কানি দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করেন। পরে আদালত শুনানি নিয়ে রাকিবুলের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাকিবুল হাসানের একটি অডিও ভাইরাল হয়। ছড়িয়ে পড়া ওই অডিও রেকর্ডে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে অবস্থান করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে রাকিবুল ইসলামের কথোপকথন শোনা যায়।
পরে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ডিএমপি। এরপর কমিটির সদস্যরা তাকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পরে তার বিরুদ্ধে একই থানার ইন্সপেক্টর সুব্রত দেবনাথ মামলা দায়ের করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
রাকিবুলের নামে প্রচার করা ওই অডিওটিতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, রাস্তায় থাকা পুলিশ খুবই দুর্বল। শেখ হাসিনা যদি ডিসেম্বরে ফিরে আসে, তবে তারা কিছুই করতে পারবে না।
ওই ব্যক্তি অডিওতে দাবি করেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন, অথচ মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা তা করছেন না।
পুলিশের পদায়নে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ নিয়েও কথা বলতে শোনা যায়। যদিও ওসি রাকিবুলের নামে ছড়িয়ে পড়া অডিওটি তারই কিনা সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ অডিও নিয়ে তুমুল সমালোচনা তৈরি হলে প্রথমে রাকিবুল ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করে নেয় ডিএমপি। পরে এ বিষয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় বৃহস্পতিবার বিকালে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

